কয়েক মাস আগে পর্যন্তও যাঁর জায়গা দলে নিশ্চিত ছিল না, সেই সঞ্জু স্যামসন আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের মধ্যমণি। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর যখন তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হওয়া— সঞ্জুর এই সফরটি ছিল ধৈর্য ও মানসিক লড়াইয়ের।
নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকতে এক মাস ‘ডিজিটাল সন্ন্যাস’
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জু জানান, সমালোচনার ঝড় থেকে নিজেকে দূরে রাখতে তিনি দীর্ঘ এক মাস মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, “ব্যর্থ হলে সমাজমাধ্যমে কী ধরনের সমালোচনা হয়, তা আমি জানতাম। তাই বাইরের কোলাহল থেকে দূরে থেকে নিজের খেলায় মনোযোগ দিতেই ফোন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” দেশে বিশ্বকাপের আসর বসলে প্রত্যাশার চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তা অনুধাবন করেই এই কঠোর সংযম পালন করেছিলেন তিনি।
ব্যাটিং দর্শনে আমূল পরিবর্তন
সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে ব্যাটিংয়ের ধরন বদলে ফেলার কথা উল্লেখ করেন সঞ্জু। তাঁর কথায়, “আগে আমি প্রতিটা বলে বড় শট খেলার চেষ্টা করতাম, যা সবসময় কাজে আসত না। নিউজিল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি নিজের ব্যাটিং দর্শন বদলে ফেলেছি।” প্রতি বলে মারতে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার রণনীতিই তাঁকে বিশ্বসেরার মঞ্চে সাফল্য এনে দিয়েছে।
সচিনের সেই ২৫ মিনিটের মহার্ঘ্য পরামর্শ
নিজের সাফল্যের জন্য কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সঞ্জু। তিনি জানান, আইপিএলের সময় থেকেই সচিনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সঞ্জু বলেন, “সচিন স্যার আমাকে ২৫ মিনিট ধরে বুঝিয়েছিলেন কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয় এবং অনুশীলনের কৌশল কেমন হওয়া উচিত। এমনকি ফাইনালের আগের দিনও তিনি ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন আমি মানসিকভাবে তৈরি কি না। ওঁর মতো মানুষের পরামর্শ পাওয়া আমার জন্য বিরাট সৌভাগ্যের।”
গম্ভীরের চোখে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরা
ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর সঞ্জুর এই প্রত্যাবর্তনকে অলৌকিক বলে বর্ণনা করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে সঞ্জুর তুলনা প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন, “দু’জনের তুলনা করা ঠিক নয়। তবে সঞ্জুর চরিত্রিক দৃঢ়তা অতুলনীয়। ও যখন জানত যে ওর ক্রিকেটজীবন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেখান থেকে ফিরে এসে টানা তিনটি ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স করা কল্পনা করা যায় না।” গম্ভীরের মতে, সঞ্জুর এই সাহসই তাঁকে আধুনিক ক্রিকেটের নতুন ধ্রুবতারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিরুঅনন্তপুরমের রাস্তায় এদিন সঞ্জুকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সঞ্জুর এই লড়াই আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

