রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটাল নতুন সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। এই রদবদলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ভবানীপুরের প্রাক্তন রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়কে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) নিয়োগ করা।
সিএমও-তে নয় আমলার প্রবেশ
রবিবার জারি করা সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, মোট ১০ জন আমলাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আধিকারিককে আনা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। এই তালিকায় রয়েছেন দুই আইএএস (IAS) আধিকারিক— ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প দফতরের যুগ্মসচিব পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তল।
বাকিদের মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের এসডিও, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের উপসচিব এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তাঁদের প্রত্যেককেই সিএমও-তে সিনিয়র উপসচিব পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চর্চায় সুরজিৎ রায়
নতুন নিয়োগের তালিকায় সবথেকে বেশি নজর কেড়েছেন সুরজিৎ রায়। বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল:
- তিনি নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়কের ‘ঘনিষ্ঠ’ আধিকারিক।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
- তৃণমূলনেত্রী স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন।
কমিশন সেই সময় নবান্নের পাঠানো প্যানেল থেকে কাউকে নিয়োগ না করে সুরজিৎ রায়কেই পদে বহাল রেখেছিল। ভোট মিটতেই সেই বিতর্কিত আধিকারিককে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উত্তরবঙ্গে বদলি ও অন্যান্য পরিবর্তন
সিএমও-তে নিয়োগের পাশাপাশি এক আমলাকে সরানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সহকারী সচিব পবিত্র চক্রবর্তীকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমে (NBSTC) বদলি করা হয়েছে। তাঁর নতুন কর্মস্থল হবে কোচবিহার।
রদবদলের প্রেক্ষাপট
নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই শনিবার তাঁর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে শান্তনু বালা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপরই নবান্নের তরফে ৬২ জন আমলাকে তলব করা হয়, যাঁদের মধ্যে অনেকেই পূর্বতন সরকারের মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। সেই তলবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রবিবার ১০ জনের বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকের কথা রয়েছে। তার আগেই এই রদবদল প্রশাসনের রাশ শক্ত করার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

