কলকাতাকে নিশানা করে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হুমকির পালটা কড়া জবাব দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। মঙ্গলবার ব্যারাকপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে পাক উপপ্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফকে সতর্ক করে রাজনাথ বলেন, “৫৫-৫৬ বছর আগে কী হয়েছিল মনে আছে তো?” ১৯৭১-এর যুদ্ধে পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে দিল্লির কড়া মনোভাব স্পষ্ট করেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত: পাকিস্তানের ‘কলকাতা’ হুমকি
সম্প্রতি পাকিস্তানের শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেন, ভারত নাকি পাকিস্তানে ‘সাজানো হামলা’র (False Flag Operation) ছক কষছে। আসিফের অভিযোগ ছিল, ভারত নিজেদের জেলে থাকা বন্দি বা কাশ্মীরি নাগরিকদের ব্যবহার করে একটি নাটকীয় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে পরে পাকিস্তানের ওপর দায় চাপানো যায়। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে বলেন, ভারত যদি এমন কিছু করে, তবে পাকিস্তান যুদ্ধকে কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসবে। অর্থাৎ, তাদের নিশানায় থাকবে পশ্চিমবঙ্গ।
তৃণমূলের আক্রমণ ও রাজনাথের জবাব
পাকিস্তানের মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই হুমকির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। সোমবার এক জনসভা থেকে মমতা বলেছিলেন:
“পাকিস্তানের মন্ত্রী কলকাতাকে নিশানা করার কথা বলেন কী করে? কেন মোদীজি চুপ? কেন বলতে পারলেন না যে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে? এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
তৃণমূলের এই আক্রমণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যারাকপুরের মাটি থেকে সরাসরি জবাব দেন রাজনাথ সিংহ। কোনো রাখঢাক না করেই তিনি জানান, ভারতের সামরিক শক্তির দিকে চোখ রাঙালে তার পরিণাম কী হতে পারে, তা পাকিস্তান ১৯৭১ সালেই টের পেয়েছে।
পাক গোয়েন্দা সূত্রের ‘আজব’ দাবি
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলি দাবি করেছে যে, তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ভারতের একটি বিশেষ পরিকল্পনার হদিশ পেয়েছে। পাক মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ভারত নাকি নিজেদের লোক বা বন্দি পাকিস্তানিদের হত্যা করে তাদের দেহ সন্ত্রাসবাদী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে। এই কাল্পনিক আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করেই আসিফ সরাসরি কলকাতাকে যুদ্ধের মানচিত্রে টেনে আনার ধৃষ্টতা দেখান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের এদিনের মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সীমান্ত পারের উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার যে বিন্দুমাত্র আপস করবে না, সেই বার্তাই ব্যারাকপুর থেকে পৌঁছে দেওয়া হলো ইসলামাবাদে।

