ভোটের নজরদারিতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বুথে অনিয়ম রুখতে কমিশনের নয়া ‘এআই’ অস্ত্র

ভোটের নজরদারিতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বুথে অনিয়ম রুখতে কমিশনের নয়া ‘এআই’ অস্ত্র

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। বুথের অন্দরে এবং বাইরে কড়া নজরদারি চালাতে এবার মোতায়েন করা হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং এজেন্টদের নজর এড়িয়েও যদি কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটে, তবে তা মুহূর্তের মধ্যে ধরে ফেলবে এই উন্নত প্রযুক্তি।


কীভাবে কাজ করবে এআই নজরদারি?

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বুথের ভেতরে একটি এবং বাইরে এক বা একাধিক শক্তিশালী ওয়েবক্যাম বসানো থাকবে। এই ক্যামেরাগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকবে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের এআই সফটওয়্যার। এর কার্যকারিতা মূলত দুটি বিশেষ দিকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি:

  • অতিরিক্ত উপস্থিতি শনাক্তকরণ: নিয়ম অনুযায়ী বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার, তিনজন পোলিং অফিসার এবং প্রার্থীপিছু একজন করে পোলিং এজেন্ট থাকতে পারেন। এআই প্রযুক্তি মানুষের উপস্থিতি গণনা করতে সক্ষম। যদি নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে একজনও বেশি ব্যক্তি বুথে প্রবেশ করেন, তবে এআই ওই ব্যক্তিকে একটি ‘কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র’ (Rectangular Box) দিয়ে চিহ্নিত করবে এবং কন্ট্রোল রুমের স্ক্রিনটি লাল হয়ে যাবে।
  • ইভিএম-এ সময়সীমা পর্যবেক্ষণ: কোনো ভোটার বা ব্যক্তি যদি ইভিএম (EVM) মেশিনের সামনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি (যেমন ২ মিনিটের বেশি) দাঁড়িয়ে থাকেন, তবে এআই তৎক্ষণাৎ সংকেত পাঠাবে। এক্ষেত্রেও প্রযুক্তির সাহায্যে ওই ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে সেক্টর অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে সতর্ক করা হবে।

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতি

কন্ট্রোল রুমের পর্দায় কোনো বুথের ছবি লাল হয়ে উঠলে, সেখানে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারের ফোন নম্বর ভেসে উঠবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি ফোন করে জানতে চাওয়া হবে কেন অতিরিক্ত ব্যক্তি বুথে প্রবেশ করেছেন বা কেন কোনো ভোটার ইভিএম-এর সামনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করছেন।


কন্ট্রোল রুমের পরিকাঠামো

বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নজরদারির জন্য একটি বিশালাকার সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। এর বিশেষত্বগুলি হলো:

  • পর্দা ও পর্যবেক্ষণ: মোট ৭২টি বড় স্ক্রিন থাকবে নজরদারির জন্য। এছাড়াও আরও ১৮টি স্ক্রিনে এসএসটি (Static Surveillance Team) এবং এফএসটি (Flying Surveillance Team)-র গাড়ির গতিবিধি দেখা যাবে।
  • কর্মীবাহিনী: প্রায় ২০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার কন্ট্রোল রুমে মোতায়েন থাকবেন। এক একজন অবজার্ভার একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
  • অভিযোগ কেন্দ্র: সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য ১০টি টেলিফোন লাইনসহ একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু থাকবে।

জিপিএস ও ভ্রাম্যমাণ নজরদারি

ফ্লাইং স্কোয়াড এবং কুইক রেসপন্স টিমের প্রতিটি গাড়ির মাথায় ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা লাগানো থাকবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কমিশন নিশ্চিত হতে পারবে যে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে সঠিক টহলদারি চলছে কি না।

প্রযুক্তির এই সাঁড়াশি দাপটে এবারের নির্বাচনে রিগিং বা বুথ দখলের মতো ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.