আইপিএলে টানা দুই মরসুমের ব্যর্থতার পর লখনউ সুপার জায়ান্টসের নেতৃত্ব হারাতে পারেন তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার ঋষভ পন্থ। তাঁকে নিয়ে লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের মোহভঙ্গ হয়েছে বলে ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন। লখনউয়ের গ্লোবাল ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট টম মুডি পন্থকে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, পন্থ দলের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
পয়েন্ট তালিকার তলানিতে লখনউ
চলতি মরসুমে আইপিএলের লিগ তালিকার একেবারে শেষে অর্থাৎ তলানিতে থেকে অভিযান শেষ করেছে লখনউ সুপার জায়ান্টস। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে মাত্র ৪টিতে, আর লজ্জাজনকভাবে হেরেছে ১০টি ম্যাচে। অধিনায়ক হিসেবে দলকে টানতে তো ব্যর্থ হয়েছেনই, পাশাপাশি ব্যাটার পন্থও মরসুমে চেনা ছন্দে ধরা দেননি। স্বাভাবিকভাবেই লখনউয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা এই ফলাফলে চরম হতাশ।
শনিবার পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচে পরাজয়ের পর টম মুডি দলের সার্বিক ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খোলেন। পন্থের নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পন্থকে এবার অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়েছে, যা দলের ফলাফলেই স্পষ্ট। অধিনায়কের পদের অতিরিক্ত চাপ পন্থের ব্যাটিং পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই মরসুমটা আমাদের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। তবে সব বিষয় নিয়ে আমাদের বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে হবে।”
কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ফ্র্যাঞ্চাইজি
টম মুডি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, দলের পারফরম্যান্স মোটেও প্রত্যাশিত মানের হয়নি। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দলের প্রতিটি বিভাগকে নতুন করে সাজানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য:
“আমরা প্রত্যাশার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারিনি। নেতৃত্বেও সমস্যা ছিল। আমাদের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও আমরা পিছপা হব না। আমাদের সবকিছু নতুন করে গোছাতে হবে।”
২৭ কোটির পন্থের টানা ব্যর্থতা
গত মেগা নিলামের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েন্কা রেকর্ড ২৭ কোটি টাকা খরচ করে ঋষভ পন্থকে দলে নিয়েছিলেন। বিপুল অঙ্কের বিনিময়ে দলে এলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি। এর আগের মরসুমেও পন্থের নেতৃত্বে লখনউ লিগ তালিকায় সাত নম্বরে শেষ করেছিল। এবার পারফরম্যান্সের গ্রাফ আরও নেমে যাওয়ায় এবং টানা দুই মরসুম দল ব্যর্থ হওয়ায়, পন্থের হাত থেকে নেতৃত্বের ব্যাটন কেড়ে নেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

