লোঢ়া কমিটির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ: ৭০ পার করলেও সিএবি-র যুগ্মসচিব পদে বহাল মদন মোহন ঘোষ

লোঢ়া কমিটির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ: ৭০ পার করলেও সিএবি-র যুগ্মসচিব পদে বহাল মদন মোহন ঘোষ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রশাসনিক সংস্কারে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারপতি লোঢ়া কমিশনের সুপারিশ এখন প্রশ্নের মুখে সিএবি বা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল-এ। অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং লোঢ়া কমিটির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিএবি-র যুগ্মসচিব পদে বহাল রয়েছেন মদন মোহন ঘোষ। গত ২১ মে তিনি ৭০ বছর বয়স পার করলেও এখনও পদ ছাড়েননি। এই ঘটনায় ময়দানে প্রশ্ন উঠছে, সিএবি কর্তৃপক্ষ কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না এবং তিনি কর্মকর্তা হিসেবে কতটা অপরিহার্য?

সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম ও নজির

লোঢ়া কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনও ব্যক্তি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা তার অধীনস্থ কোনও রাজ্য সংস্থার প্রশাসনিক পদে থাকতে পারবেন না। এই নিয়মের জেরেই অতীতে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও ‘কুলিং অফ’-এ যেতে হয়েছিল। এ ছাড়াও অভিষেক ডালমিয়া, বিশ্বরূপ দে এবং সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কর্তাদেরও পদ ছাড়তে হয়েছিল। এমনকি ৭০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল রজার বিন্নীকেও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন প্রথমবার সিএবি সভাপতি হন, তখন এই একই নিয়ম মেনে সহকারী সচিব বিশ্বনাথ সামন্ত এবং সহ-সভাপতি অমিয় আড্ডি তৎক্ষণাৎ পদত্যাগ করেছিলেন।

এ বিষয়ে সিএবি-র প্রাক্তন সহকারী সচিব বিশ্বনাথ সামন্ত বলেন:

“প্রেসিডেন্ট (সৌরভ) নিজে এসে আমাকে বলেছিলেন সরে যেতে হবে। এটাও বলেছিলেন, ‘আপনি না সরলে আমাকে জেল খাটতে হবে’। আমি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলাম। এখন সিএবি-তে ডামাডোলের বাজার চলছে। বাংলার ক্রিকেটের হাল দেখলেই তা বোঝা যায়।”

নীরব সিএবি কর্তৃপক্ষ

অভিযোগের মুখে পড়ে যুগ্মসচিব মদন মোহন ঘোষ নিজে কোনও সদুত্তর দেননি। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়ে যা বলার সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই বলবেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএবি-র এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোটের আগে হয়তো ওঁকে কোনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, যাই হোক না কেন উনি পদে থেকে যাবেন। কিন্তু এই ঘটনা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অবমাননা। এর ফলে গোটা দেশের কাছে সিএবি-র ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”

তৃণমূল স্তরের ক্রিকেট কর্তাদের মতে, যেখানে অতীতে বহু বড় বড় কর্মকর্তা নিয়ম মেনে পদ ছেড়েছেন, সেখানে মদন মোহন ঘোষের পদ আঁকড়ে থাকা এবং সিএবি-র নীরবতা বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.