ভোট চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাইক ব্যবহারের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধিনিষেধের মূল শর্তাবলী
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ও তার দুদিন আগে বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নিয়মগুলি মানতে হবে:
- ভোটের দুদিন আগে: সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইক চালানো যাবে, কিন্তু বাইকের পিছনে কোনো যাত্রী বসানো যাবে না (সিঙ্গেল রাইডার)।
- ভোটের দিন: সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বা জরুরি প্রয়োজনে বাইক নিয়ে বের হওয়া যাবে।
- রাতের নিষেধাজ্ঞা: ভোটের আগের দুদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনো বাইক চালানো যাবে না।
কাদের জন্য ছাড়?
কমিশন জানিয়েছে, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাবে:
- জরুরি প্রয়োজনে: চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ, পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে বা শিশুদের স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- সামাজিক অনুষ্ঠান: সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
- অ্যাপ-ক্যাব বা পরিষেবা: র্যাপিডো বা অন্যান্য অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক পরিষেবার ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
এছাড়া, বিধিনিষেধের বাইরে বিশেষ কোনো প্রয়োজনে ছাড় পেতে হলে স্থানীয় থানার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
কবে থেকে কার্যকর?
- প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। এই এলাকার জন্য গত সোমবার থেকেই বাইক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।
- দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল ১৪২টি কেন্দ্রে ভোট রয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ২৭ এপ্রিল থেকে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সংবাদপত্র, টিভি ও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, তা পুলিশ প্রশাসনকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।

