গণতন্ত্রের নামে ‘জমানা বদলের’ চেষ্টা করছে কমিশন: কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিস্ফোরক মহম্মদ সেলিম

গণতন্ত্রের নামে ‘জমানা বদলের’ চেষ্টা করছে কমিশন: কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিস্ফোরক মহম্মদ সেলিম

রাজ্যের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সাঁজোয়া গাড়ির ব্যবহার নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন যে, কমিশন নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের বদলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরির কাজ করছে।

কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সেলিমের তোপ

সেলিম এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘আমেরিকা যেমন ইরাকে মিসাইল নিয়ে গিয়ে গণতন্ত্র না ফিরিয়ে সরকার বদলেছিল, এখানেও নির্বাচন কমিশন সাঁজোয়া গাড়ি ও প্যারা মিলিটারি ফোর্স নিয়ে এসে গণতন্ত্র ফেরানোর বদলে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর ব্যবস্থা করছে।’’ তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেই যে ভোট নিরপেক্ষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের দিকেও আঙুল তুলে বলেন, পঞ্চায়েত বা পুরভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশও একই রকম ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও মেরুকরণের রাজনীতি

তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করে সেলিম বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে এই দুই শক্তি ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণের রাজনীতি করে মানুষের মূল সমস্যা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে ধামাচাপা দিয়েছিল। তবে তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সেই বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত ইস্যুগুলো নিয়ে বেশি সচেতন। তৃণমূলকে বিজেপি তথা আরএসএস-এর ‘সাইড কিক’ (সহযোগী) হিসেবে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এবারের ভোট আর সাম্প্রদায়িক লাইনে হচ্ছে না।

ভোটার তালিকা ও কমিশনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন সেলিম। সিপিএমের অভিযোগ, ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে কটাক্ষ করে সেলিম বলেন, ‘‘তাঁর যা চিবোনোর ক্ষমতা, তার চেয়ে বেশি তিনি কামড়ে ফেলেছেন।’’

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও নিয়মিত কমিশনের বিরোধিতা করে আসছে। শাসকদলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সেলিম ও তৃণমূলের সুর কিছুটা এক হওয়ার ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বামপন্থীদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনো পক্ষকেই ছাড় দিতে নারাজ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দাবিতে তারা অনড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.