পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশের তেল ও গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে দিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যরা।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নীতিনির্ধারণ
প্রধানমন্ত্রী মোদীর পৌরহিত্যে আয়োজিত এই বৈঠকে যোগ দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলি ছিল:
- নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ: যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানিতে কোনো বাধার সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশদ রিপোর্ট তলব করেন।
- সার ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে প্রভাব: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা দেশের কৃষি (সার উৎপাদন) এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়।
- জরুরি পদক্ষেপ: দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ঘাটতি রুখতে প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্যাসের জোগান ও নতুন নির্দেশিকা
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমানে গৃহস্থালিতে রান্নার গ্যাসের (LPG) সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের মধ্যে সিলিন্ডার বুকিং সংক্রান্ত উদ্বেগও অনেকটা প্রশমিত হয়েছে। এই অবস্থায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান আগের স্থিতাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে কেন্দ্র।
বিকল্প জ্বালানিতে জোর: জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্র এখন থেকেই এলপিজি-র ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পিএনজি (নলবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে:
- গার্হস্থ্য ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে পিএনজি সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
- পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পরিকাঠামো তৈরির জন্য যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ থেকে স্বস্তির খবর
বৈঠকের আবহেই একটি আশাব্যাঞ্জক তথ্য সামনে এসেছে। ১৬,৭১৪ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে আমেরিকা থেকে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে। এই আমদানি বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এবং ভাণ্ডার মজুত রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

