বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ: রাজ্যের ২৯৪ আসনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করল কমিশন

বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ: রাজ্যের ২৯৪ আসনে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীনই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য পৃথক ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসার (RO) নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বজায় রাখতে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ওপরই ভরসা রাখছে নয়াদিল্লি।


উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হাতেই গুরুদায়িত্ব

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আন্ডার সেক্রেটারি শক্তি শর্মা বৃহস্পতিবার এই নিয়োগ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের কাছে পাঠিয়েছেন। এবারের তালিকায় প্রশাসনের উচ্চস্তরের আধিকারিকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন:

  • অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) ও মহকুমাশাসক (SDO)
  • জেলা পরিষদের সচিব ও সহ-সচিব
  • জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক
  • জেলা সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক
  • জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক এবং ভূমি অধিগ্রহণ দফতরের বিশেষ আধিকারিকবৃন্দ

ডিএমডিসি প্রথা থেকে সরে এল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আগে রাজ্যে সাধারণত ডিএমডিসি (ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ডেপুটি কালেক্টর) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতেন। তবে এবার সেই পথে হাঁটেনি কমিশন।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চ সম্প্রতি রাজ্য সফরে এসে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রিটার্নিং অফিসার পদে ন্যূনতম মহকুমাশাসক বা সমতুল্য পদমর্যাদার আধিকারিকদের রাখতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এবার ১৫২টি কেন্দ্রে সরাসরি মহকুমাশাসক বা সমমানের অফিসারদের বসানো হয়েছে। এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এখন থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরাই নির্বাচনের মূল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।


কেন এই পরিবর্তন?

সিইও দফতর সূত্রের খবর, নির্বাচনের সময় স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়োগ করার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার ত্রুটি বা পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা কমিয়ে আনাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.