তোপসিয়া অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত রিপোর্ট পেয়েই কড়া অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, অবৈধ কারখানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

তোপসিয়া অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত রিপোর্ট পেয়েই কড়া অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, অবৈধ কারখানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার তোপসিয়ার জিজে খান রোডের একটি বহুতলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিলজলা থানার অন্তর্গত ওই অবৈধ চামড়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তিনি যে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন, তারা বুধবার সকাল ১১টার মধ্যেই নবান্নে রিপোর্ট জমা দেয়। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের ঘটনাকে রাজ্যের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ‘অশনিসংকেত’ বলে অভিহিত করে রাজ্যজুড়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযানের ঘোষণা করেছেন তিনি।


অনুমোদিত প্ল্যান নেই, ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও: তদন্ত রিপোর্ট

বিশেষ তদন্ত কমিটির পেশ করা রিপোর্টে তোপসিয়ার ওই বহুতলটি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে:

  • টালিখোলা মসজিদের কাছে অবস্থিত যে চার তলা বিল্ডিংয়ের দোতলায় আগুন লেগেছিল, সেটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মিত। বহুতলটির কোনো অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান (Approved Building Plan) ছিল না।
  • চামড়ার মতো দাহ্য পদার্থের কারখানা হওয়া সত্ত্বেও আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেখানে কোনো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (Fire Extinguisher) বা বিকল্প ব্যবস্থার বালাই ছিল না।

এই চরম গাফিলতির কারণেই মঙ্গলবার দুপুরে যখন আগুন লাগে, তখন মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে কারখানার শ্রমিকরা শৌচাগারের ভেতরে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। উদ্ধারকারীরা তাঁদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে আরও তিন জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দু’জনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।


দুই মালিক গ্রেফতার, সিইএসসি-কে বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার নির্দেশ

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার নবান্নে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ওই অবৈধ কারখানার দুই মালিককে ইতিপূর্বেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে কেবল গ্রেফতারিতেই ক্ষান্ত থাকছে না প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ওই কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে।

পাশাপাশি, ‘সিইএসসি’ (CESC)-র মতো বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতার তথা রাজ্যের যেখানে যেখানে এই ধরনের অবৈধ কারখানা বা নির্মাণ চলছে, সেখানে অবিলম্বে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিতে হবে।


‘একদিনের মধ্যে ভাঙা হবে অবৈধ কাঠামো’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“রাজ্যে কোনো রকম বেআইনি কাজ বা মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বরদাস্ত করা হবে না। চিহ্নিত অবৈধ কারখানা এবং বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা কাঠামো আগামী একদিনের (২৪ ঘণ্টা) মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

নবান্ন সূত্রে খবর, নিয়ম না মেনে এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে যাঁরা এতদিন ব্যবসা চালাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়ার পথেই হাঁটছে নতুন সরকার। তোপসিয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাজ্যজুড়ে বেআইনি নির্মাণ ও অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে বড়সড় যৌথ অভিযানে নামতে চলেছে পুলিশ, পুরসভা এবং দমকল প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.