আইপিএল ২০২৬: চিপকের হারের মধুর প্রতিশোধ একানায়, মার্শ-পুরানের তাণ্ডবে চেন্নাইকে ৭ উইকেটে ওড়াল লখনউ

আইপিএল ২০২৬: চিপকের হারের মধুর প্রতিশোধ একানায়, মার্শ-পুরানের তাণ্ডবে চেন্নাইকে ৭ উইকেটে ওড়াল লখনউ

মাত্র পাঁচ দিন আগেই চিপকের মাঠে উর্বিল পটেলের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ের কাছে ২০০-র বেশি রান তুলেও হারতে হয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টসকে। শুক্রবার নিজেদের ঘরের মাঠ একানা স্টেডিয়ামে তারই মধুর প্রতিশোধ নিল লখনউ। মিচেল মার্শের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং শেষ দিকে নিকোলাস পুরানের তাণ্ডবে চেন্নাই সুপার কিংসকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিল স্বাগতিকরা। চেন্নাইয়ের ১৮৭ রানের পুঁজি মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় লখনউ।


শুরুর ধাক্কা সামলে কার্তিকের লড়াই, চেন্নাইয়ের সংগ্রহ ১৮৭

এ দিন টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে একানার মন্থর পিচে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চেন্নাই সুপার কিংসের টপ অর্ডার। বড় শট খেলতে ব্যর্থ হন সঞ্জু স্যামসন ও রুতুরাজ গায়কোয়াড়। সঞ্জু ২০ বলে ২০ এবং রুতুরাজ ৯ বলে ১৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। গত ম্যাচের নায়ক উর্বিল পটেলও এবার মাত্র ৬ রানে আউট হন। ফলে ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র চাপে পড়ে সিএসকে।

চতুর্থ উইকেটে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে সঙ্গে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেন অভিজ্ঞ ব্যাটার কার্তিক। শর্ট পিচ বলে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও ক্রিজে টিকে থেকে স্পিনারদের ওপর চড়াও হন তিনি। শাহবাজ আহমেদকে দুটি ছক্কা ও দুটি চার মারার পাশাপাশি পেসার প্রিন্স যাদবকেও টানা দুটি ছক্কা হাঁকান কার্তিক। ৩৫ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি।

অন্যপ্রান্তে ব্রেভিস ২৫ রান করে মহম্মদ শামির বলে আউট হন। এর পরের ওভারেই ৭১ রান করে সাজঘরে ফেরেন কার্তিক। শেষ দিকে শিবম দুবের অপরাজিত ৩২ এবং প্রশান্ত বীরের ১৩ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করে চেন্নাই।


পাওয়ার প্লে-তেই মার্শের ঝড়, রানআউটে হাতছাড়া শতরান

১৮৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে লখনউয়ের দুই ওপেনার মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালান। প্রথম ওভারেই মুকেশ চৌধরিকে তিনটি চার মেরে শুরু করেন মার্শ। ম্যাচের পঞ্চম ওভারে অংশুল কম্বোজের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ৪টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে এক ওভারেই ২৮ রান তোলেন এই অস্ট্রেলীয় তারকা। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৮৬ রান তুলে ম্যাচ একতরফা করে দেয় লখনউ।

যখন মনে হচ্ছিল মার্শ চলতি মরসুমে নিজের দ্বিতীয় শতরানটি পেয়ে যাবেন, ঠিক তখনই ঘটে ছন্দপতন। ১২তম ওভারে মুকেশের বলে জশ ইংলিস (৩৬) আউট হওয়ার ঠিক পরের বলেই ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে যান মার্শ। মাত্র ৩৮ বলে ৯টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৯০ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি।


শেষে পুরানের ফিনিশিং ধামাকা

দুই সেট ওপেনার এবং এরপর আব্দুল সামাদ (৭) দ্রুত বিদায় নিলে লখনউ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। নিকোলাস পুরান শুরুতে বেশ কিছু বল ডট খেললেও ক্রিজে থিতু হওয়ার পর ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন। শেষ ২৪ বলে যখন লখনউয়ের জয়ের জন্য ২৪ রান দরকার ছিল, তখন অংশুল কম্বোজের এক ওভারে টানা ৪টি ছক্কা মেরে খেলা শেষ করে দেন পুরান। এই জয়ের ফলে প্লে-অফের দৌড়ে লখনউ সুপার জায়ান্টস নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.