পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকেই রাজ্যের ১৫০-টির বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। বর্তমান বিধায়কদের ভাগ্য নির্ধারণের পাশাপাশি একগুচ্ছ নতুন মুখ নিয়ে চমক দিতে চলেছে পদ্ম শিবির।
১৫০ আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত
সূত্রের খবর, গত দুই দিন ধরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার বাসভবনে দফায় দফায় আলোচনার পর ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে সেই তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অন্তত ১৫০টি আসনের প্রার্থীর নাম জনসমক্ষে আনা যায়। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশে যে বিলম্ব হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি চাইছে না দিল্লি।
টিকিট পাচ্ছেন ৮৫-৯০ শতাংশ বিধায়ক
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর:
- পুরনো মুখ: বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই পুনরায় লড়াই করার সুযোগ পাচ্ছেন।
- বাদ পড়ছেন কারা: ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিধায়ক এবার টিকিট পাচ্ছেন না। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছে পারফরম্যান্সের কারণে, আবার কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার দরুন নিজেরাই প্রার্থী হতে অনিচ্ছুক।
নতুন মুখ ও সাংগঠনিক গুরুত্ব
প্রার্থী তালিকায় এবার বেশ কিছু চমক থাকতে পারে। সংগঠন থেকে উঠে আসা একঝাঁক নতুন মুখকে এবার নির্বাচনী ময়দানে নামাতে চলেছে বিজেপি। এমন কিছু ব্যক্তিত্বকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে যাঁরা আগে কখনও বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেননি। জেতা আসন এবং যে সব আসনে জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, সেই কেন্দ্রগুলি নিয়েই মূলত এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
মোদী নিবাসে উপস্থিত রাজ্য নেতৃত্ব
প্রধানমন্ত্রী নিবাসে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা:
- রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
- বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী
- প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার
- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ও সাংসদ মনোজ টিগ্গাসহ সংগঠনের দুই সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও সতীশ ঢোন্ড।
প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হওয়া এই বৈঠক শেষে নেতারা সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ না খুললেও, তাঁদের শরীরী ভাষায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল স্পষ্ট। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের বৈঠকে প্রতিটি আসনের জন্য ৩ থেকে ৪টি নামের প্যানেল তৈরি করেছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। সেই তালিকা থেকেই বেছে নেওয়া হয়েছে চূড়ান্ত নামগুলি।

