অনীকই একমাত্র বন্ধু যাঁর সৃষ্টিতে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলাম: পরান বন্দ্যোপাধ্যায়

অনীকই একমাত্র বন্ধু যাঁর সৃষ্টিতে আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলাম: পরান বন্দ্যোপাধ্যায়

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণে গভীর শোকস্তব্ধ টলিউডের প্রবীণ অভিনেতা পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর রায়বাহাদুর দর্পনারায়ণ চৌধুরী থেকে শুরু করে ‘বরুণবাবুর বন্ধু’-র সুকুমারের চরিত্র— অনীক দত্তের সেলুলয়েডের ফ্রেমে একের পর এক কালজয়ী অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচালকের সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরিচালকের এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

“অনীকের সৃষ্টিতেই আমি আন্তর্জাতিকভাবে ধন্য হয়েছিলাম”

বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্ক এলাকার একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন অনীক দত্ত। তড়িঘড়ি তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুঃসংবাদ পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারী গলায় তিনি বলেন:

“যেকোনো মৃত্যুই দুঃখের, কষ্টের। আর অনীকের এই চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অনীককে সবাই ভালবাসত। ওঁর মূল্যবোধ, সমাজসচেতনতা, আদর্শ ও লক্ষ্য— সবকিছুই ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত। এই পরিচ্ছন্ন মানসিকতার জন্যই মানুষ ওকে এত ভালবাসত, ও অনেকের ভীষণ কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছিল। ওঁর সেই বন্ধুদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম।”

পরিচালকের সঙ্গে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির কথা স্মরণ করে প্রবীণ অভিনেতা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি যোগ করেন, “ওঁর পরিচালনায় বেশ কিছু ছবিতে আমি কাজ করেছি। যার মধ্যে একটি ছবি আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সম্মান পেয়েছিল এবং আমি নিজে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরা অভিনেতা হিসেবে সম্মানিত হয়েছিলাম। অনীকই আমার একমাত্র বন্ধু, যাঁর সৃষ্টির হাত ধরে আমি আন্তর্জাতিকভাবে ধন্য হয়েছিলাম। ওঁর দেওয়া এই সম্মান ও প্রাপ্তি আমি কোনোদিন ভুলব না।”

এক অপূরণীয় ক্ষতি

অনীক দত্ত পরিচালিত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ এবং ‘বরুণবাবুর বন্ধু’-র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্রগুলিতে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় দর্শক মহলে বিপুল সমাদর পেয়েছে। কাজের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সেই সুদীর্ঘ বন্ধুত্বের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বারবার বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসছিল অভিনেতার কণ্ঠ। আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক সংবাদটি যদি আজ তাঁকে না শুনতে হতো, তবে তিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অনীক দত্তের এই আকস্মিক প্রস্থান যে এক বিশাল ও অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অশ্রুসজল বার্তায় যেন তারই প্রতিফলন ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.