হাওড়ায় সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা: খবর সংগ্রহে গিয়ে রক্তাক্ত এবিপি আনন্দের সাংবাদিক, ভেঙেছে নাকের হাড়

হাওড়ায় সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা: খবর সংগ্রহে গিয়ে রক্তাক্ত এবিপি আনন্দের সাংবাদিক, ভেঙেছে নাকের হাড়

রাজ্যে ফের আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম। হাওড়ার পিলখানায় এক প্রোমোটার খুনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হলেন এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। বেধড়ক মারধরে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং মুখ ফেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে। হেনস্থা করা হয়েছে চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকেও। বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আক্রান্ত সাংবাদিক।

ঘটনার সূত্রপাত: পিলখানায় প্রোমোটার খুন

বুধবার সকালে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত পিলখানা এলাকায় সৌফিক খান নামে এক প্রোমোটারকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে একদল দুষ্কৃতী। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের তোলা না দেওয়ায় তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে সরব হন এবং জিটি রোডে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে ভোট বয়কটের ডাকও দেন তাঁরা।

সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী জানান, তিনি যখন বুম হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন আচমকা কিছু লোক তাঁকে ঘিরে ধরে। তাঁর চশমা খুলে নেওয়া হয় এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর শুরু করা হয়।

হাসপাতাল থেকে ফোনে ময়ূখ বলেন, “অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে হাওড়া গিয়েছিলাম। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করা হয়। ঘটনার আগে ও পরে পুলিশ থাকলেও, আক্রমণের সময় তারা সেখানে ছিল না।” প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনায় ইতিমিধ্যেই গোলাবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

প্রোমোটার খুনের ঘটনায় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে শাসকদলের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। তিনি বলেন, “বর্তমানে হাওড়ায় অপরাধের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। কমিশনারকে বলা হয়েছে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।”

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের ওপর এই হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাতেও খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। বারংবার সংবাদকর্মীদের ওপর এই ধরণের হামলা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

এক নজরে পরিস্থিতি

  • নিহত: প্রোমোটার সৌফিক খান (গুলিবিদ্ধ)।
  • আক্রান্ত সাংবাদিক: ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী ও উজ্জ্বল ঘোষ।
  • ক্ষয়ক্ষতি: সাংবাদিকের নাকের হাড় ভঙ্গ, বাইকে অগ্নিসংযোগ ও রাস্তা অবরোধ।
  • বর্তমান অবস্থা: এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকলেও খুনের ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.