সোমবারের আগে পর্যন্ত আইপিএলের আঙিনায় তিনি ছিলেন এক প্রকার ‘অচেনা’। নিলামে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হওয়া এই ক্রিকেটারের ওপর কজনই বা বাজি ধরেছিলেন! কিন্তু মাঠের লড়াই শুরু হতেই সব হিসেব উল্টে দিলেন প্রফুল হিঙ্গে। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ওভারেই ৩ উইকেট এবং ম্যাচ শেষে ৪ উইকেট নিয়ে রাতারাতি প্রচারের আলোয় চলে এলেন নাগপুরের এই তরুণ তুর্কি।
স্বপ্নের শুরু ও আত্মবিশ্বাস
অভিষেক ম্যাচেই এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা প্রফুল নাকি আগে থেকেই করে রেখেছিলেন। ম্যাচের পর তিনি জানান, “আমি আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম যে প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেলে ৪-৫টি উইকেট নেব। পাওয়ার প্লে-তে বিপক্ষকে চাপে রাখাই ছিল আমার লক্ষ্য। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি এবং সেই বিশ্বাসই আজ কাজে লেগেছে।”
লড়াইয়ের নেপথ্যে টেনিস বল ও পরিবারের অবদান
সঞ্চালক মুরলী কার্তিক জানান, প্রফুলের ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়েছিল টেনিস বলে। ১৩ বছর বয়সে যখন তিনি খেলা শুরু করেন, তখন চামড়ার বলের ক্রিকেট সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না। প্রফুল বলেন:
“বাবা প্রথমে ছোট বলে বারণ করলেও পরে আমাকে ক্লাবে ভর্তি করে দেন। আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার কৃতিত্ব আমার পরিবারের। তাঁদের কঠোর পরিশ্রম আর আত্মত্যাগ ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। এই পুরস্কার আমি তাঁদেরই উৎসর্গ করছি।”
প্রথম ওভারের জাদু ও কোচের ভূমিকা
এ দিন নিজের দ্বিতীয় বলেই ইন-ফর্মে থাকা বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করেন প্রফুল। এটিকেই ম্যাচের সেরা উইকেট হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বৈভবকে প্রথম বলেই বাউন্সার বা কঠিন কোনো বল করার পরিকল্পনা ছিল। আমাদের বোলিং কোচ বরুণ অ্যারন ভাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।”
চোট সারিয়ে প্রত্যাবর্তন
অতীতের চোট-আঘাত কাটিয়ে এখন প্রফুল পুরোপুরি ফিট। নিজের এই কামব্যাকের পেছনে এমআরএফ (MRF) অ্যাকাডেমির কোচ ও ফিজিওদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।
হায়দরাবাদের এই নতুন পেসার যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটের স্বল্প অভিজ্ঞতা (মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি) সম্বল করে আইপিএলের মঞ্চে জ্বলে উঠলেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য এক ইতিবাচক সংকেত। প্রফুল হিঙ্গের এই ‘রাতারাতি উত্থান’ এখন ক্রিকেট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

