ক্রিকেটের বিশ্বজনীন বাজার এবং উন্মাদনাকে কাজে লাগাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘বিগ ব্যাশ লিগ’ (বিবিএল)-এর আগামী মরশুমের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতের মাটিতে। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের জন্য চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামকে বেছে নিয়েছেন অজি ক্রিকেট কর্তারা।
নিজেদের দেশে একাধিক বিশ্বমানের স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও কেন উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ভারতকে বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল।
বিসিসিআই ও তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সবুজ সংকেত
অস্ট্রেলিয়ার এই ঘরোয়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচ ভারতে আয়োজন করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। একই সঙ্গে এই আয়োজনে সবুজ সংকেত দিয়েছে তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও (টিএনসিএ)।
ক্রিক্রেট অস্ট্রেলিয়ার পদস্থ কর্তারা ইতিমধ্যেই চেন্নাইয়ের এম এ চিদম্বরম (চিপক) স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো এবং সার্বিক সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখে গেছেন। উল্লেখ্য, গত আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) শেষ হোম ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে প্রত্যক্ষ করেছিলেন অজি ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্তারা।
“ভারত এখন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার”: অরুণ ধুমল
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা পিটিআই (PTI)-কে আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমল বলেন:
“দেখুন, ভারত এখন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিতভাবেই এই বাণিজ্যিক সুযোগকে কাজে লাগাতে চায়। ভারত এখন ক্রিকেট বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ফলে ক্রিকেটের প্রসারে অবদান রাখার প্রচুর সুযোগ আমাদের রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই বিগ ব্যাশ লিগকে ভারতে স্বাগত জানানো হয়েছে। অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ক্রিকেট অলিম্পিক্সেরও অংশ হতে চলেছে, যা এই খেলার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। গোটা বিশ্বের সামনে ক্রিকেটকে তুলে ধরার এটি একটি দারুণ সুযোগ। আমি নিশ্চিত, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তারা তাঁদের ব্যবসায়িক দিকটি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর ফলে তাঁদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার আরও উন্নতি হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।”
নেপথ্যে বিপুল বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কৌশল
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী বাণিজ্যিক সমীকরণ:
- ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ: যে সমস্ত ভারতীয় সংস্থা বিশ্ব ক্রিকেটে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে, মূলত সেই কর্পোরেট সেক্টর ও স্পনসরদের আকৃষ্ট করাই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
- আর্থিক মুনাফা: ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশাল অংশের মধ্যে বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে পারলে, সম্প্রচার স্বত্ব ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড।
বিগ ব্যাশের হাত ধরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটীয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

