ভারতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ‘তারকাপ্রথা বিলোপ’ তত্ত্বের সঙ্গে একেবারেই একমত নন প্রাক্তন কোচ রাহুল দ্রাবিড়। বর্তমান কোচ যেখানে দলে কোনো রকম স্পেশাল ট্রিটমেন্ট বা তারকাপ্রথার ঘোর বিরোধী, দ্রাবিড়ের অবস্থান ঠিক তার বিপরীত। ‘দ্য ওয়াল’-এর মতে, ক্রীড়াজগতে তারকাদের একটি নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে এবং দলের সাফল্যের স্বার্থেই তাঁদের প্রয়োজন আছে।
গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলে ‘তারকাপ্রথা’ বন্ধ করতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি কিংবা রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদেরও এই নিয়মের বেড়াজালে পড়তে হয়েছে। গম্ভীরের এই অনমনীয় দর্শনের সঙ্গে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটারই পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেননি, যার ফলে কোচের সঙ্গে ক্রিকেটারদের একাংশের দূরত্ব তৈরি হওয়ার গুঞ্জনও শোনা গেছে। এই আবহে গম্ভীরকে পরোক্ষ বার্তা দিয়ে তারকাদের পক্ষেই সওয়াল করলেন দ্রাবিড়।
“পারফর্ম না করে কেউ নায়ক হয় না” — যুক্তি দ্রাবিড়ের
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ রাহুল দ্রাবিড় স্পষ্ট ভাষায় জানান, ক্রীড়াজগতে সব সময়ই তারকা ক্রিকেটাররা ছিলেন এবং থাকবেন। তাঁর কথায়:
“যেকোনো খেলাতেই তারকা থাকে। পারফর্ম না করে কেউ রাতারাতি নায়ক হতে পারে না— বিশেষ করে ভারতে তো নয়ই। কারণ এ দেশের সমর্থকেরা যেমন ক্রিকেটারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দেন, তেমনই খারাপ খেললে তীব্র বিদ্রুপ বা কটাক্ষ করতেও ছাড়েন না। এখানে সব সময় খেলোয়াড়দের ওপর কড়া নজর রাখা হয় এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে।”
দ্রাবিড় আরও যোগ করেন, “এ দেশে কেউ যখন তারকা বা কিংবদন্তির মর্যাদা পায়, তার মানে সে বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেছে। পারফর্ম করে দেশকে জিতিয়েছে বলেই সে এই স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই খেলার জগতে তারকাদের সবসময়ই প্রয়োজন রয়েছে।” নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র সহবাগ ও ভিভিএস লক্ষ্মণদের উদাহরণ টানেন তিনি। দ্রাবিড়ের যুক্তি, কেউ নিজে নিজে তারকা হন না, ক্রিকেটপ্রেমীরাই তাঁদের এই সিংহাসনে বসিয়েছেন এবং এই সোনালী প্রজন্মই ভারতীয় ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
রোহিত-কোহলিদের বিকল্প পাওয়া সহজ নয়
টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম ও টানা কয়েকটি সিরিজে ব্যর্থতার বিষয়েও মুখ খুলেছেন দ্রাবিড়। রোহিত, কোহলি বা অশ্বিনের মতো তারকাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করেন তিনি।
দ্রাবিড় বলেন, “টেস্টে আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ খারাপ গেছে। দল দু-তিনটি সিরিজে ভালো করতে পারেনি। তবে দলে কয়েকজন বড় নাম ছিল না সেটাও মাথায় রাখতে হবে। কোহলি, রোহিত, অশ্বিন অবসর নিয়েছে। ওদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের জায়গা নেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়।” তবে একই সঙ্গে আশাবাদী দ্রাবিড় জানান, ভারতীয় ক্রিকেটের ভিত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তিন ধরনের ক্রিকেটেই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা দলের রয়েছে। এর জন্য তরুণ ক্রিকেটারদের কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।
লাল বলের ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ঘাটতির কারণ
টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে অতিরিক্ত সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে দায়ী করেছেন দ্রাবিড়। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সারা বছর ক্রিকেটাররা প্রচুর পরিমাণে সাদা বলের ক্রিকেট (ওডিআই ও টি-২০) খেলেন। তার মাঝে হঠাৎ করে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া যেকোনো ক্রিকেটারের পক্ষেই বেশ কঠিন। এই ঘন ঘন ফরম্যাট পরিবর্তনের ধকলই খেলোয়াড়দের টেকনিক ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন প্রাক্তন এই বিশ্বসেরা ব্যাটার।

