শিক্ষা বাজেটে ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকার ঐতিহাসিক বরাদ্দ: ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে বড় পদক্ষেপ

শিক্ষা বাজেটে ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকার ঐতিহাসিক বরাদ্দ: ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে বড় পদক্ষেপ

শিক্ষা খাতে লক্ষ্যণীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি

চলতি বাজেটে শিক্ষা খাতের জন্য মোট ১.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮.২ শতাংশ বেশি। অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক এক বিবৃতিতে জানান, এই বিপুল বরাদ্দ ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে।

বরাদ্দের তুলনামূলক চিত্র:

  • স্কুল শিক্ষা: ৮৩,৫৬২.২৬ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ৬.৩৫%)।
  • উচ্চশিক্ষা: ৫৫,৭২৭.২২ কোটি টাকা (বৃদ্ধি ১১.২৮%)। গত পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ২০২১ অর্থবর্ষের ৮৪,২১৯ কোটি টাকা থেকে ক্রমাগত বেড়ে বর্তমানের ১.৩৯ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও শিল্প সংযোগ

নতুন বাজেটে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহাসঙ্ঘের মতে, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর উদ্দেশ্য পূরণে এই পদক্ষেপগুলি অত্যন্ত কার্যকর হবে:

  • এভিজিসি ল্যাব: দেশের ১৫,০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০ কলেজে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং এবং কমিকস (AVGC) ল্যাব স্থাপন করা হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ: প্রধান শিল্প ও লজিস্টিক করিডোরের কাছে পাঁচটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • স্থায়ী কমিটি: শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবধান ঘুচাতে ‘শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ স্থায়ী কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নারী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ নজর

উচ্চশিক্ষায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা বাড়াতে বাজেটে বড়সড় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মেয়েদের হোস্টেল স্থাপনের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রসারে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা:

  • মেডিকেল আসন: চলতি বছরে ১০,০০০ নতুন আসন এবং আগামী পাঁচ বছরে আরও ৭৫,০০০ আসন যুক্ত করার লক্ষ্য।
  • আয়ুর্বেদ ও পরিচর্যা: তিনটি নতুন সর্বভারতীয় আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ১.৫ লক্ষ পরিচর্যাকারীকে (Caregivers) প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মহাসঙ্ঘের প্রত্যাশা

অখিল ভারতীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ আশা প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সফল রূপায়ণে রাজ্য স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা পাবে। বিশেষ করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শূন্যপদ পূরণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে এই সহায়তা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত উন্নতি নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.