বিধানসভায় শুভেন্দুর আক্রমণের কড়া জবাব দেওয়ার নির্দেশ মমতার, নজরে ক্যাগের রিপোর্ট পেশের দিন

বিধানসভায় শুভেন্দুর আক্রমণের কড়া জবাব দেওয়ার নির্দেশ মমতার, নজরে ক্যাগের রিপোর্ট পেশের দিন

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক আক্রমণের জবাবে বিধানসভায় এ বার কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিক আক্রমণের বিরুদ্ধে দলীয় বিধায়কদের নীরবতায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানান, সংখ্যায় কম হলেও বিধানসভার ভেতরে চোখে চোখ রেখে এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীঘাটের বাসভবনে তাঁর অনুগামী বিধায়কদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন তৃণমূল নেত্রী। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী দিনে সংগঠনের রূপরেখা নির্ধারণের বিষয়ে মতামত জানতেই মূলত এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেটের জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না।” ওই সময়ে বিধানসভায় উপস্থিত কালীঘাটপন্থী বিধায়করা নিশ্চুপ থাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হন বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ, কুণাল ঘোষ, আব্দুল রহিম বক্সী, পুলক রায় ও মোশারফ হোসেনের মতো বিধায়কদের তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এর পর থেকে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি আক্রমণের জবাব বিধানসভার ভেতরেই কড়া ভাষায় দিতে হবে।

উলেখ্য, এর আগে ক্যাথিড্রাল রোডে ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন। তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না দাবি করে তিনি বলেছিলেন, মাথা নত না করে তাঁর দল লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ২০৩১ সালে সব হিসাব বুঝে নেবে। এর পাল্টা জবাবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় মন্তব্য করেন, ২০৩১ সালে তৎকালীন সরকারের ক্যাগের (CAG) রিপোর্ট পেশ ও আলোচনার বিষয়টি বাধ্যতামূলক থাকলেও বিগত সরকার তা করেনি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২৫ তারিখ ক্যাগের রিপোর্ট পেশ করা হবে এবং অনিয়ম মিললে অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার জন্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করা হবে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের ৮০ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৬৫ জন পৃথক ব্লক গঠন করে মমতার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে বর্তমানে মাত্র ১২ থেকে ১৫ জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে রয়ে গিয়েছেন। এই স্বল্প রাজনৈতিক শক্তি নিয়েই বিধানসভায় পাল্টা লড়াইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

চলতি বাজেট অধিবেশনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রের খবর, শনিবার অধিবেশনের শেষ দিনে ক্যাগের রিপোর্ট পেশের জন্য মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন। সেদিন শুভেন্দু অধিকারী পুনরায় সরব হলে মমতার অনুগামী বিধায়করা কীভাবে তাঁর মুখোমুখি হন, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.