পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে ঝাড়গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। এবার বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পর সুদূর নেদারল্যান্ডসে গিয়েও সেই ‘ঝালমুড়ি’র প্রসঙ্গ টেনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডাচ ভূমিতে প্রবাসী ভারতীয়দের এক সভায় নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ভঙ্গিতে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করলেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে নাকি!”
চলতি পাঁচ দেশীয় সফরের দ্বিতীয় চরণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) হয়ে নেদারল্যান্ডসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শনিবার সে দেশের ‘দ্য হেগ’ (The Hague) শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে এক বিশেষ আলোচনা সভায় মিলিত হন তিনি।
সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণ ও গণতন্ত্রের ভরসা
অনুষ্ঠানে ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলির ফলাফল ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“যখন দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন গণতন্ত্রের উপর তাঁদের ভরসা আরও বৃদ্ধি পায়।”
প্রধানমন্ত্রীর মুখে পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী সাফল্যের কথা শুনেই সভাগৃহে উপস্থিত প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র উল্লাস ও করতালিধ্বনি শোনা যায়। হলজুড়ে তৈরি হওয়া সেই বিপুল উচ্ছ্বাস দেখেই মৃদু হেসে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?”
বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যের রেকর্ড ভোটদানের হারের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী। তিনি জানান, সব রাজ্যেই এবার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীদের ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ও নজিরবিহীন।
ঝাড়গ্রামের হেলিপ্যাড ও ‘মাথা না খাওয়ার’ সেই গল্প
গত এপ্রিল মাসে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যখন তাঁর কনভয় হেলিপ্যাডের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই কলেজ মোড়ের কাছে আচমকা গাড়ি থামিয়ে দেন তিনি। এসপিজি (SPG) বলয় ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে মোদী সটান চলে যান রাস্তার ধারের একটি সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানে। সেখানে ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি।
মুড়ি মাখার সময় বিক্রেতা যখন জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি ঝাল বা পেঁয়াজ খাবেন কিনা, তখন ঈষৎ হেসে প্রধানমন্ত্রী ডাচ প্রবাসীদের শোনান তাঁর সেই চটজলদি জবাব— “আমি ঝালও খাই, পেঁয়াজও খাই; শুধু কারও মাথা খাই না (সির্ফ দিমাগ নেহি খাতা হুঁ)।”
“ঝাল লেগেছে তৃণমূলের” — বিদেশের মাটিতেও রাজনৈতিক খোঁচা
নির্বাচন চলাকালীন মোদীর এই ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে তীব্র কটাক্ষ ও খোঁচা দিয়েছিল তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েননি মোদীও। পরবর্তীতে এ রাজ্যে অন্য এক প্রচারসভায় এসে তিনি বলেছিলেন, “আমার ঝালমুড়ি খাওয়া কিছু মানুষকে জোরে ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি খেয়েছি আমি, কিন্তু ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।”
এমনকি বাংলা জয়ের পর রাজ্যজুড়ে মিষ্টির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘ঝালমুড়ি’ বিতরণ করা হবে বলেও ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর সেই চিত্রও দেখা গেছে বিভিন্ন প্রান্তে। এবার সেই রাজনৈতিক লড়াই ও সাফল্যের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘ঝালমুড়ি’র কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তুলে ধরলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ছ’দিনের ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও নেদারল্যান্ডস সফর শেষে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য নরওয়ে, সুইডেন এবং ইটালি।

