ভোজশালা মূলত দেবী সরস্বতীর মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র: ঐতিহাসিক রায়ে জানাল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট

ভোজশালা মূলত দেবী সরস্বতীর মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র: ঐতিহাসিক রায়ে জানাল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট

মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌল মসজিদ চত্বর নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোজশালায় একটি প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার পর্যাপ্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুক্রবার এই রায় দেওয়ার সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, বিতর্কিত ওই স্থানে হিন্দুদের উপাসনার ধারাবাহিকতা কোনো সময়ই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি।

ঐতিহাসিক নথি ও সাহিত্যের উল্লেখ করে হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই ভোজশালাটি মূলত পরমার রাজবংশের প্রখ্যাত রাজা ভোজের আমলে নির্মিত একটি সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র ছিল। সনাতন স্বাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এটি আসলে বাগদেবী সরস্বতীর মন্দির, যা রাজা ভোজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।


মুসলিম পক্ষকে বিকল্প জমির পরামর্শ ও এএসআই-এর ওপর দায়িত্ব

অন্য দিকে, মুসলিম পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে, এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে ‘কমল মৌল মসজিদ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বর্তমান রায়ের প্রেক্ষিতে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধার জেলায় মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দ করতে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ভোজশালার এই প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভটি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের পূর্ণ দায়িত্ব ‘আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’ (ASI)-র হাতে ন্যস্ত করেছে আদালত।


এএসআই-এর ২০০০ পাতার রিপোর্ট ও মন্দির কাঠামোর অকাট্য প্রমাণ

এই মামলার মোড় ঘোরে ২০২৪ সালে, যখন হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে এএসআই ওই চত্বরে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা শুরু করে। দীর্ঘ ৯৮ দিন ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা চালানোর পর এএসআই আদালতের কাছে ২০০০-এরও বেশি পাতার একটি বিস্তৃত রিপোর্ট জমা দেয়।

সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়:

  • বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি গড়ে ওঠার আগে সেখানে পরমার রাজাদের আমলের একটি বিশাল ঐতিহাসিক স্থাপনা ছিল।
  • পরবর্তীকালে মসজিদটি নির্মাণের সময় পূর্বতন মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ও স্তম্ভ পুনর্ব্যবহার করা হয়েছিল।

হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই-এর সমীক্ষায় উদ্ধার হওয়া প্রাচীন মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে এটি মূলত একটি মন্দিরই ছিল। যদিও মুসলিম পক্ষ আদালতে এএসআই-এর এই রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করে তা খারিজের দাবি জানিয়েছিল, যা আদালত গ্রাহ্য করেনি।


লন্ডনের মিউজিয়াম থেকে সরস্বতী মূর্তি ফেরানোর নির্দেশিকা

রায়ের শেষ অংশে হাইকোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছে। বর্তমানে লন্ডনের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকা ভোজশালার মূল দেবী সরস্বতীর মূর্তিটি যাতে পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই সংক্রান্ত আবেদনগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই রায়ের ফলে ভোজশালা নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও সামাজিক বিতর্কের অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.