তিন ম্যাচ হাতে থাকতেই ভারতীয় মহিলা ফুটবলের মুকুট ধরে রাখল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার সেতু এফসি এবং সেসা এফসি-র মধ্যেকার ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হতেই এন্তনি অ্যান্ড্রুজের দলের খেতাব জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। এই জয়ের ফলে টানা দু’বার মহিলাদের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল লাল-হলুদ ব্রিগেড। একইসঙ্গে সরাসরি এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করল তারা।
পয়েন্ট তালিকার সমীকরণ
চলতি মরসুমে ফাজিলা ইকাওয়াপুটদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার যা অবস্থান:
- ইস্টবেঙ্গল: ১১ ম্যাচে ১০টি জয় এবং ১টি হারসহ মোট ৩০ পয়েন্ট।
- সেতু এফসি: ১২ ম্যাচে বর্তমানে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে।
সেতু এফসি-র হাতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। যদি তারা দুটি ম্যাচই জেতে, তবে তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হবে ২৯। ফলে গাণিতিক নিয়মেই ইস্টবেঙ্গলকে টপকে যাওয়া আর সম্ভব নয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির পক্ষে।
দাপুটে পরিসংখ্যান ও এএফসি-র হাতছানি
পুরো প্রতিযোগিতায় ইস্টবেঙ্গল কেবল মাঠেই নয়, পরিসংখ্যানেও প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে।
- আক্রমণ ও রক্ষণ: ১১ ম্যাচে ৩৮টি গোল করেছেন ফাজিলারা, বিপরীতে গোল হজম করেছেন মাত্র ৫টি।
- গোলমেশিন ফাজিলা: দলের হয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করেছেন ফাজিলা ইকাওয়াপুট।
গত বছর এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেখানে একটি ম্যাচ জেতার সুবাদে এবার আর প্রাথমিক পর্ব খেলতে হবে না; সরাসরি মূল পর্বে নামবে লাল-হলুদ বাহিনী।
একই মরসুমে জোড়া লিগ জয়ের হাতছানি
মহিলা দলের এই সাফল্য ক্লাব সমর্থকদের প্রত্যাশা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আইএসএলে (ISL) অস্কার ব্রুজোর প্রশিক্ষণাধীন ছেলেদের দলও খেতাব জয়ের দৌড়ে রয়েছে।
- লিগ টেবিল: মোহনবাগানের সমান পয়েন্ট (২২) হলেও গোল পার্থক্যে আপাতত শীর্ষে রয়েছে সৌভিক চক্রবর্তীরা।
- রেকর্ডের হাতছানি: যদি পুরুষ দলও আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তবে একই বছরে ক্লাবের পুরুষ ও মহিলা—উভয় দলের লিগ জয়ের এক অনন্য নজির গড়বে লাল-হলুদ।
মহিলা দলের এই ট্রফি জয় এখন ছেলেদের দলের ওপর বাড়তি ইতিবাচক চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছে ফুটবল মহল। আগামী ১৭ মে-র ডার্বি এখন ইস্টবেঙ্গলের লিগ জয়ের স্বপ্নে বড় নির্ণায়ক হতে চলেছে।

