২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে (WTC) পাখির চোখ করে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। কাজের চাপ কমাতে এবং দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে আপাতত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
দীর্ঘ ফরম্যাটে গুরুত্ব দেওয়ার ভাবনা
আসন্ন ওডিআই বিশ্বকাপকেই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন সলমন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছেন। সলমন বলেন, “এক দিনের বিশ্বকাপ আসতে এখনও দেরি আছে ঠিকই, তবুও এখন থেকেই সূচি বেছে খেলার কথা ভাবছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধকল কতটা নেব, সেটাও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। আপাতত আমি এক দিনের ক্রিকেট এবং টেস্টে মনোনিবেশ করতে চাইছি। কিছু দিনের জন্য টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকব।” প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় বসবে এক দিনের বিশ্বকাপের আসর।
নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও পারফরম্যান্সের চাপ
গত এক বছর ধরে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলকে নেতৃত্ব দিলেও সলমনের অধিনায়কত্ব ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স মোটেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নেতৃত্বের মুকুট হারানোর ইঙ্গিত পেয়েই সলমন ২০ ওভারের ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছেন। তবে পিসিবি-কে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।
তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সওয়াল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হলেও সাদা বলের ক্রিকেটে সলমনের ফর্ম একেবারে খারাপ নয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজে ১০৬, ৬৪ এবং ৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছেন তিনি। সলমনের মতে, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এখন থেকেই পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ভালো খেলা তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক স্তরে সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এতে তরুণরা অভিজ্ঞতা অর্জনের পর্যাপ্ত সময় পাবে।
বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেটের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে সলমনের এই সিদ্ধান্ত দল গঠনের ক্ষেত্রে পিসিবি-কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

