দেশের রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও জনবহুল এলাকা চিত্তরঞ্জন পার্কে (CR Park) এক হাড়হিম করা অপরাধের সাক্ষী থাকল দিল্লিবাসী। শুক্রবার সকালে সিআর পার্কের একটি বহুতল আবাসন থেকে উদ্ধার করা হলো ৭০ বছর বয়সী সুরেন্দ্র কুমার এবং তাঁর ৪০ বছর বয়সী পুত্র ঋষভের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও দেহ উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহতরা সিআর পার্কের একটি বহুতল আবাসনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। শুক্রবার সকালে তাঁদের পরিচারিকা এসে ফ্ল্যাটের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি ড্রয়িং রুম এবং শোবার ঘরে সুরেন্দ্র ও ঋষভকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং ফরেনসিক দল।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতদেহ দুটির ঘাড়ে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই ঘটনাস্থলে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান
দক্ষিণ দিল্লি পুলিশের ডিসিপি জানান, মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ:
- পরিচিতদের হাত: ফ্ল্যাটের সদর দরজায় জোর করে ঢোকার (Forced Entry) কোনো চিহ্ন মেলেনি। এতে পুলিশের অনুমান, আততায়ীরা নিহতের পরিচিত ছিল এবং তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল অথবা তাদের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি ছিল।
- চুরির উদ্দেশ্য নয়: ফ্ল্যাটের কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া না যাওয়ায় পুলিশ নিশ্চিত যে, এটি ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে করা খুন নয়।
- ঠান্ডা মাথায় অপরাধ: অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং ঠান্ডা মাথায় খুন করে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
[Image showing CR Park area and forensic team investigating]
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রতিবেশীদের বয়ান
নিরাপত্তার স্বার্থে সিআর পার্ক এলাকার প্রায় প্রতিটি মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। পুলিশ ওই আবাসনের এবং পার্শ্ববর্তী রাস্তার সমস্ত ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সূত্রের খবর, সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে এবং পুলিশ এখন একটি নির্দিষ্ট টাইমলাইন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রতিবেশীদের মতে, সুরেন্দ্র বাবু ও তাঁর ছেলে অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ঋষভ একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। জনবহুল ও নিরাপদ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় এমন ‘ডাবল মার্ডার’ দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সম্ভাব্য কারণ
তদন্তকারীরা বর্তমানে সম্পত্তিগত বিবাদ, পুরনো শত্রুতা অথবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ—এই তিনটি দিককে সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছেন। ঋষভের ব্যক্তিগত জীবন এবং সুরেন্দ্র কুমারের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাসও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক দল গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকাটি পুলিশি ঘেরাটোপে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক সময় এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

