আইপিএলের মঞ্চে ফিল্ডিংয়ের সংজ্ঞা যেন নতুন করে লিখে দিলেন শ্রেয়স আইয়ার। বৃহস্পতিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাউন্ডারি লাইনে শ্রেয়সের নেওয়া অবিশ্বাস্য এক ‘রিলে ক্যাচ’ দেখে মন্ত্রমুগ্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এমন বুদ্ধিদীপ্ত এবং শারীরিক সক্ষমতার মেলবন্ধন সচরাচর দেখা যায় না। খোদ সচিন টেন্ডুলকরও শ্রেয়সের এই কৃতিত্ব দেখে প্রশংসা না করে থাকতে পারেননি।
যেভাবে ধরা হলো সেই ‘দর্শনীয়’ ক্যাচ
মুম্বই ইনিংসের ১৮তম ওভারে মার্কো জানসেনের বলে লং-অন দিয়ে বড় শট খেলেছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। বলটি যখন নিশ্চিতভাবে বাউন্ডারির দড়ি পার করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চিতার গতিতে দৌড়ে এসে শূন্যে লাফিয়ে বলটি তালুবন্দি করেন শ্রেয়স। ভারসাম্য হারিয়ে বাউন্ডারি লাইনের ওপারে চলে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি বলটি ছুড়ে দেন সামনে থাকা সতীর্থ জ়েভিয়ার বার্টলেটের দিকে। বার্টলেট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেই ক্যাচটি ধরেন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল ক্যাচটি নেওয়ার স্থান। শ্রেয়স যখন শূন্যে ভাসছিলেন, ঠিক তাঁর সামনেই ছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ডাগআউট। সেখানে বসে থাকা রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবরা এই দৃশ্য দেখে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। রোহিতের বিস্ময়বিস্ফোরিত মুখের ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
সচিনের ভূয়সী প্রশংসা
মাস্টার ব্লাস্টার সচিন টেন্ডুলকর এই ক্যাচের ব্যবচ্ছেদ করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “শ্রেয়সের এই অসাধারণ ক্যাচের নেপথ্যে শুধু শারীরিক ফিটনেস নয়, রয়েছে প্রখর বুদ্ধিও। বলের গতি, উচ্চতা এবং বাউন্ডারি লাইনের অবস্থান বিচার করে একদম নিখুঁত সময়ে ও লাফ মেরেছিল। বাতাসে ভেসে থাকাকালীনই ওকে বুঝতে হয়েছে ওর সতীর্থ ফিল্ডার কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ওর ঠান্ডা মাথা এবং সময়জ্ঞানেরই পরিচয় দেয়।”
“নিজে নিজের পিঠ চাপড়াচ্ছি”
ম্যাচের পর এই ক্যাচ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হাস্যরসের সুরেই শ্রেয়স বলেন, “এটি এককথায় ‘দর্শনীয়’ ছিল। কেউ তো আর প্রশংসা করছে না, তাই নিজেই নিজের প্রশংসা করে পিঠ চাপড়ে নিচ্ছি।” নিজের সাফল্যের আনন্দ এভাবেই ভাগ করে নেন কেকেআর অধিনায়ক।
অতীতে আইপিএলে একাধিক ‘রিলে ক্যাচ’ দেখা গেলেও, শ্রেয়সের এই ক্যাচটি উচ্চতা এবং বুদ্ধিমত্তার বিচারে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে করছেন, মরসুমের সেরা ক্যাচের তালিকায় এটি এক প্রবল দাবিদার।

