ভারতীয় ক্রিকেট দলে বছরের পর বছর ‘ব্রাত্য’ থেকেছেন তিনি। বারবার প্রতিভা প্রমাণ করলেও ড্রেসিংরুমের ভরসা জিততে লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই সঞ্জু স্যামসনই হয়ে উঠলেন ভারতের তুরুপের তাস। খোদ টিম ইন্ডিয়ার কোচ গৌতম গম্ভীর স্বীকার করে নিলেন, সঞ্জুর একটি বিধ্বংসী ইনিংসই বদলে দিয়েছিল গোটা দলের মানসিকতা, যার হাত ধরে বিশ্বজয়ের স্বাদ পেলেন সূর্যকুমার যাদবরা।
ইডেনের সেই ৯৭: যেখানে মোড় ঘুরেছিল বিশ্বকাপের
বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গম্ভীর জানান, টুর্নামেন্টের শুরুতে ফর্মে না থাকা অভিষেক শর্মার জায়গায় সঞ্জুকে খেলানো ছিল অনেকটা বাধ্যবাধকতা। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে সঞ্জুর ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসটিই ছিল টুর্নামেন্টের টার্নিং পয়েন্ট।
গম্ভীরের ভাষায়:
“ওই ম্যাচটা আমাদের কাছে কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল। আগের চার-পাঁচটা ম্যাচে সুযোগ না পেয়েও ১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে সঞ্জু যেভাবে শান্ত অথচ আগ্রাসী ব্যাটিং করেছিল, তা অবিশ্বাস্য। ওই ইনিংসটাই আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল আমরা সঠিক পথে আছি।”
আইসিসি টুর্নামেন্টের ‘ভীতি’ কাটালেন সঞ্জু-ঈশান
গম্ভীর জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারত আগ্রাসী খেললেও আইসিসি ইভেন্টে সেই মেজাজ কেন থাকে না, তা নিয়ে দলের ভেতর চর্চা চলছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে তিন নম্বরে নামা ঈশান কিশনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং সঞ্জুর ফিনিশিং সেই জড়তা কাটিয়ে দেয়। সঞ্জু শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পিছনেও নির্ভরতা দিয়ে ঈশানের কিপিং জনিত সমস্যার সমাধান করেন।
বঞ্চনার ইতিহাস ও মধুর প্রতিশোধ
সঞ্জু স্যামসনের কেরিয়ার ছিল বঞ্চনার দীর্ঘ উপাখ্যান।
- ২০২৪ বিশ্বকাপ: দলে থাকলেও একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি। তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড় ফাইনালে তাঁকে খেলানোর কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তে ঋষভ পন্থের ওপরই ভরসা রাখেন।
- ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান: নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যর্থতার পর শুরুতে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
অবশেষে নামিবিয়া ম্যাচে সুযোগ পাওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এবারের বিশ্বকাপে ‘সেরা ক্রিকেটারের’ পুরস্কার জিতে সঞ্জু যেন মাঠেই জবাব দিলেন দীর্ঘদিনের অবহেলার। গম্ভীরের মতে, সঞ্জুর এই প্রত্যাবর্তনের লড়াই গোটা দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল।

