২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঘর গোছাতে শুরু করল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, আগামী ৫ মার্চ তৃণমূল প্রার্থীরা একযোগে তাঁদের মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই দলীয় বিধায়কদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠাতে শুরু করেছে তৃণমূল পরিষদীয় দল।
প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে নারাজ শাসকদল
মঙ্গলবার বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ বিধায়কদের দ্রুত প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। কোনো বিধায়ক যাতে প্রস্তাবক হিসেবে সই করা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও ফোন করে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার নির্ঘণ্ট:
- ২৬ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
- ২৭ ফেব্রুয়ারি – ২ মার্চ: বিধায়কদের মনোনয়নপত্র এবং প্রস্তাবক হিসেবে সই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
- ৫ মার্চ: মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং তৃণমূল প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের সম্ভাব্য তারিখ।
- ৬ মার্চ: জমা পড়া নথিপত্রের স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ।
- ৯ মার্চ: মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
বর্তমান সমীকরণ ও শূন্য আসন
এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসন নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর সম্প্রতি দলত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় একটি আসন শূন্য হয়েছে। এছাড়া মেয়াদ শেষ হচ্ছে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং সাংসদ সাকেত গোখলে ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুব্রত বক্সী পুনরায় রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী নন। অন্যদিকে, সাকেত ও ঋতব্রতকে ফের প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে জল্পনা রয়েছে।
বিরোধীদের অবস্থান ও ভোটের অঙ্ক
শাসকদল তৎপর হলেও বিরোধী শিবির অর্থাৎ বিজেপি শিবিরে এখনও তেমন তোড়জোড় চোখে পড়েনি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরেই পদ্ম শিবিরের তৎপরতা বাড়বে। সিপিএমের একমাত্র রাজ্যসভা সাংসদ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেই আসনে এবার বিজেপি প্রার্থী দেবে। বিধানসভার সংখ্যার বিচারে বিজেপি একটি আসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এগোবে।
যদি মোট পাঁচটি আসনের বিপরীতে পাঁচজনই প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন, তবে ভোটাভুটি হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। সেক্ষেত্রে স্ক্রুটিনির দিনই জয়ী প্রার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। তবে ষষ্ঠ কোনো প্রার্থী ময়দানে নামলে লড়াই অনিবার্য হয়ে উঠবে, যার ওপর কড়া নজর রাখছে যুযুধান দুই পক্ষই।

