ইরান-আমেরিকা সংঘাত: জেনেভায় পরমাণু বৈঠকের আগে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরান-আমেরিকা সংঘাত: জেনেভায় পরমাণু বৈঠকের আগে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘের মাঝেই ইরানকে কড়া বার্তা দিল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ (Lethal Force) ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। বৃহস্পতিবার সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে দু’পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা। তার ঠিক আগেই তেহরানকে এই চরম হুঁশিয়ারি দিল ওয়াশিংটন।

রণসজ্জায় পশ্চিম এশিয়া: শক্তিপ্রদর্শনে দুই পক্ষই

গত কয়েক দিনে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতা নজিরবিহীনভাবে বাড়িয়েছে আমেরিকা। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর:

  • মার্কিন যুদ্ধবিমান: ওই অঞ্চলে ৫০টিরও বেশি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি এই বিমানগুলির আনাগোনা বহুগুণ বেড়েছে।
  • নৌবহর: হরমুজ প্রণালীর অদূরেই অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-সহ একঝাঁক রণতরী।
  • ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ: আমেরিকার এই শক্তিপ্রদর্শনের জবাবে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে ইরান। পাশাপাশি নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করতে রাশিয়া ও চিনের কাছ থেকে জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়েও তোড়জোড় শুরু করেছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসন।

কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পরেও ইরানের সঙ্গে কোনো কার্যকরী বোঝাপড়ায় আসা সম্ভব হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানো প্রয়োজন, অন্যথায় খুব খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।” ট্রাম্পের এই ‘খারাপ কিছু’ বলতে সরাসরি সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান যদি নমনীয় না হয়, তবে সামরিক পথ বেছে নিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন।

পাল্টাপাল্টি হুমকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তেহরানের দাবি, আমেরিকার যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধঘোষণা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে দুই দফার বৈঠকে কোনো রফাসূত্র বের না হওয়ায় বৃহস্পতিবারের জেনেভা বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

একদিকে খামেনেই প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের চাপ এবং অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বেষ্টনী— এই সাঁড়াশি চাপের মুখে ইরান পরমাণু চুক্তিতে সই করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.