ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে মামার ‘ভয়ঙ্কর’ ছক: স্কুটারে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর দায়ে গ্রেফতার

ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে মামার ‘ভয়ঙ্কর’ ছক: স্কুটারে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর দায়ে গ্রেফতার

ভালোবাসার দিনে (ভ্যালেন্টাইন্স ডে) রেজিস্ট্রি বিয়ে করতে গিয়ে পুলিশের জালে ফেঁসে গিয়েছিলেন এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও তাঁর প্রেমিক। তবে তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি। পুলিশি তদন্তে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— ভাগ্নির বিয়ে আটকাতে এবং হবু জামাইকে বিপদে ফেলতে তাঁদের স্কুটারের বুটে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন খোদ তরুণীর মামা। এই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রবিবার শ্রীকান্ত দাস নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত: বিয়ের আসর থেকে থানা

গত শনিবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র দিন বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ মোড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রি করতে গিয়েছিলেন ওই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও তাঁর প্রেমিক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হানা দেয় এবং তরুণীর স্কুটারের বুট তল্লাশি করে একটি সিক্স-রাউন্ডার রিভলভার উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই পুলিশ ওই যুগলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তদন্তে উঠে এল পারিবারিক শত্রুতা

আটক হওয়ার পর থেকেই ওই পরীক্ষার্থী ও তাঁর চাকরিপ্রার্থী প্রেমিক দাবি করে আসছিলেন যে, আগ্নেয়াস্ত্রটি তাঁদের নয় এবং কীভাবে সেটি স্কুটারে এল তাও তাঁরা জানেন না। এমনকি ছাত্রীর দিদিমাও থানায় গিয়ে দাবি করেন যে, তাঁর নাতনিকে কেউ গভীর ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়েছে।

পুলিশি জেরায় এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে উঠে আসে তরুণীর মামা শ্রীকান্ত দাসের নাম। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, শ্রীকান্ত তাঁর এক সহযোগীকে নিয়ে গোপনে ভাগ্নির স্কুটারের বুটে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি রেখে দিয়েছিলেন এবং নাম গোপন করে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন যাতে তাঁদের হাতেনাতে ধরা হয়।

পুলিশের হাতে মামা গ্রেফতার

রবিবার পুলিশ অভিযুক্ত শ্রীকান্ত দাসকে গ্রেফতার করলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শ্রীকান্ত জানিয়েছেন, পারিবারিক বিবাদের জেরে ভাগ্নির বিয়ে আটকানো এবং হবু জামাইকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

তদন্তের মূল আপডেট:

  • মুক্তি: ষড়যন্ত্রের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর শনিবার রাতেই ব্যক্তিগত বন্ডে ওই প্রেমিক যুগলকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
  • পুলিশি হেফাজত: ধৃত শ্রীকান্ত দাসকে রবিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এই ষড়যন্ত্রে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.