নির্ধারিত দিনেও হলো না সিএবির নির্বাচন, ধোঁয়াশা ও বিতর্কের মাঝেই এজিএম নিয়ে প্রস্তুতি

নির্ধারিত দিনেও হলো না সিএবির নির্বাচন, ধোঁয়াশা ও বিতর্কের মাঝেই এজিএম নিয়ে প্রস্তুতি

অবশেষে আশঙ্কা সত্যি হলো। নির্ধারিত সময়েও স্থগিত হয়ে গেল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর নির্বাচন। সচিব, যুগ্ম সচিব এবং একজন অ্যাপেক্স কাউন্সিলর পদে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকলেও একটিও মনোনয়ন জমা পড়েনি।

নির্বাচন স্থগিতের মূল কারণ ও লোঢা কমিটির ধোঁয়াশা

রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নির্ধারিত দিন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে, তবে সেদিন কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোধা কমিটির সুপারিশ সংক্রান্ত ধোঁয়াশা।

নিয়ম অনুযায়ী, বয়স ৭০ বছর পূর্ণ হলে কিংবা রাজ্য সংস্থা বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনে টানা ৯ বছর দায়িত্ব পালন করলে কেউ আর নির্বাচনে লড়তে পারেন না। তবে তাঁরা সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বোর্ডের অন্দরে স্পষ্ট নিয়ম বা ব্যাখ্যার অভাব রয়েছে।

গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভাতেও এই একই কারণে যুগ্ম সেক্রিটারি পদে নির্বাচন আটকে গিয়েছিল। সে সময় ১৫ জন জেলাশাসক ও ১০টি ক্লাব চিঠি দিয়ে লোধা আইন না মানার অভিযোগ তুলেছিল। এবারও সমসংখ্যক জেলাশাসক একই কারণ দেখিয়ে চিঠি দেওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বর্তমান সচিব বাবলু কোলের পদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, তার পরবর্তী দু’ মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৩ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে কারণে পরবর্তীতে ফের বিশেষ সাধারণ সভা ডাকতে হবে সিএবিকে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সৌরাশিস লাহিড়ী

নির্বাচন স্থগিত হলেও পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই ২৪ সেপ্টেম্বর বসছে সিএবির এজিএম। সেখানে শালকিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সৌরাশিস লাহিড়ি—যাঁকে ঘিরে সম্প্রতি তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সিএবির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দিন এই বিতর্ক চরমে ওঠে। সে দিন অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে সিএবি দাবি করেছিল যে, কোচ নির্বাচন নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সৌরাশিস এবং ওম্বুডসম্যানকে সবটা জানিয়ে তিনি বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি মরসুমে সৌরাশিসকে বাংলার কোনো স্তরেই কোচের দায়িত্ব দেয়নি সিএবি।

তবে সিএবির সেই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন সৌরাশিস। অনুষ্ঠান শেষ হতেই তিনি অবাক করা তথ্য দিয়ে জানান, সিএবি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য ও ব্যাখ্যা সামনে এনেছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, তিনি কখনোই ওম্বুডসম্যান বা সিএবির কাছে কোনো অভিযোগই দায়ের করেননি, তাই অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।

সমস্ত জল্পনা ও আইনি ধোঁয়াশার মাঝেই ২৪ সেপ্টেম্বরের এজিএম কতটা মসৃণ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.