‘পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের তো কোনও সীমান্তই নেই’, বেজিং-ইসলামাবাদের সীমান্ত কমিশনের বিরোধিতায় ভারত

‘পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের তো কোনও সীমান্তই নেই’, বেজিং-ইসলামাবাদের সীমান্ত কমিশনের বিরোধিতায় ভারত

সদ্যগঠিত পাকিস্তান-চিন যৌথ সীমান্ত কমিশনকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো স্বীকৃত সীমান্ত নেই। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই এই তথাকথিত কমিশনের কোনো আইনগত বা বাস্তব অস্তিত্বই নেই। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এই কমিশন গঠনকে নিছক একটি ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

মূল বিষয়সমূহ:

  • ব্রিক্‌স বৈঠকের পর পদক্ষেপ: তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দিল্লিতে ব্রিক্‌স শীর্ষবৈঠক সমাপ্ত হওয়ার পরেই চিন ও পাকিস্তান এই নতুন সীমান্ত কমিশন গঠন করে।
  • সার্বভৌমত্ব রক্ষা: বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে অবৈধ দখলদারিকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে নয়াদিল্লি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান ও দৃঢ় বিরোধিতা করে।
  • ১৯৬৩ সালের চুক্তি প্রত্যাখ্যান: ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬৩ সালের তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে ভারত।
  • ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের অবৈধ জবরদখল করা জম্মু ও কাশ্মীরের শাক্‌সগাম উপত্যকা বা ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট ১৯৬৩ সালে চিনকে উপহার দেয় ইসলামাবাদ। অন্য দুটি অংশ গিলগিট বালটিস্তান (তৎকালীন ‘ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড নর্দার্ন এরিয়া’) ও ‘আজ়াদ কাশ্মীর’ নামে পরিচালিত হয়।
  • শিনজিয়াং ও আকসাই চিন প্রসঙ্গ: ১৯৪৪ সালে ইস্ট তুর্কিস্তান দখলের পর ১৯৪৯ সালে মাও জে দংয়ের সরকার উইঘুর মুসলিমদের আবাসভূমিকে ‘শিনজিয়াং’ প্রদেশ হিসেবে চিনের অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের যুদ্ধে লাদাখের আকসাই চিন অংশও দখল করে চিনের পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।
  • সিপিইসি ও প্রতিবাদ: পশ্চিম চিনের কাশগড় থেকে দক্ষিণ পাকিস্তানের গ্বদর বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩০০ কিমি দীর্ঘ কারাকোরাম হাইওয়ে বা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) শাক্‌সগাম উপত্যকা ঘেঁষে গিয়েছে। চিনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচির এই প্রধান অঙ্গ এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর রাস্তা নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে একাধিকবার কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ জানালেও চিন ও পাকিস্তান তাতে কর্ণপাত করেনি।

এই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের জেরে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা যে আরও বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.