‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র কঠোর শর্তাবলীর কারণে যাঁরা উক্ত প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারছেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের ঘোষিত ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করল স্বাস্থ্য ভবন। শনিবার প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্পের লক্ষ্য, নির্দেশিকা এবং আবেদনের যোগ্যতা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের যে সকল স্থায়ী বাসিন্দা ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ সুবিধার বাইরে রয়েছেন, তাঁরাই মূলত এই নতুন বিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। সাধারণ মানুষকে জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার বিপুল আর্থিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা প্রদান করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বিমার সুবিধা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ
এই প্রকল্পের অধীনে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলি প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (নগদহীন) চিকিৎসা পরিষেবা পাবে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য পৃথক কার্ড প্রদান করা হবে। প্রাক-বিদ্যমান শারীরিক সমস্যা বা পূর্ববর্তী ব্যাধিগুলিও এই বিমার আওতাভুক্ত থাকবে। তবে চিকিৎসায় কোনও ‘রিইমবার্সমেন্ট’ বা খরচ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকছে না; সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই ক্যাশলেস মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আইটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমগ্র ব্যবস্থার তদারকি করা হবে। নাম নথিভুক্তকরণ, হাসপাতালে ভর্তি এবং ছুটির সময় ডিজিটাল বা বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ এবং ‘আভা’ (ABHA) আইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিকিৎসার ধরন ও নির্দেশিকা ক্ষেত্রে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের নিয়মাবলী অনুসরণ করা হবে।
যোগ্যতার মানদণ্ড ও ব্যাexclusions (যাঁরা সুবিধা পাবেন না)
প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে:
- আয়ের সীমা: যে সকল পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না।
- অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাভোগী: ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম ২০০৮’, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সিজিএইচএস (CGHS) ১৯৫৪’, ‘ইএসআই (ESI)’ কিংবা কেন্দ্র ও রাজ্যের কোনও রাষ্ট্রীয় সংস্থা (PSU), সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা পুরসভার অধীনে থাকা কর্মী ও পেনশনভোগীরা (যাঁরা স্বাস্থ্যবিমা পান) এর বাইরে থাকবেন।
- অন্যান্য ক্ষেত্র: যাঁরা নিয়মিত চিকিৎসা ভাতা পান, ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা প্রবীণ নাগরিক এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা এই তালিকায় আসবেন না।
- বিশেষ ছাড়: যাঁদের সিএএ (CAA) বা এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
পটভূমি ও প্রশাসনিক অনুমোদন
চলতি মাসের শুরুর দিকে রেজিনগরের একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের রূপরেখা ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন, “যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত পাবেন না, তাঁদের জন্য থাকবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই বিমার সুবিধা কেবল রাজ্যেই নয়, সারা ভারতেই যাতে মিলতে পারে, তা সুনিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।”
গত বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন পায়। উল্লেখ্য, প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর রাজ্যে শর্তসাপেক্ষে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’ চালু হলেও, বহু নাগরিক তার নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে না পারায় এই বিকল্প পথ সৃষ্টি করল বর্তমান সরকার।

