টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় এলেও ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। নামিবিয়াকে ৯৩ রানে হারানোর পর দলের খামতিগুলো অকপটে স্বীকার করে নিলেন তিনি। অন্যদিকে, ম্যাচের সেরা হয়ে নিজের কঠোর প্রস্তুতির রহস্য ফাঁস করলেন অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ড্য।
প্রত্যাশিত রান অধরা: সূর্যের বিশ্লেষণ
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ঈশান কিশন ও সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো সূচনার পর ভারত এক সময় বড় স্কোরের পথে ছিল। সূর্যকুমার বলেন, “প্রথম ৬-৭ ওভার দেখে মনে হচ্ছিল স্কোর ২৫০ ছুঁয়ে ফেলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। উইকেটে বল কিছুটা থেমে আসছিল। নামিবিয়ার বোলাররাও প্রশংসনীয় বোলিং করেছে।” ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধিনায়ক মেনে নেন যে, দলের শুরুটা যতটা নিখুঁত হওয়ার কথা ছিল, ততটা হয়নি।
বুমরাহ-হার্দিককে নিয়ে স্বস্তি
আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে অসুস্থতার কারণে খেলতে না পারা জসপ্রীত বুমরাহ এই ম্যাচে পুরো ৪ ওভার বল করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভারত অধিনায়ক। এছাড়া স্পিন বিভাগে অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীর জুটিরও প্রশংসা করেন তিনি। তবে সূর্যের বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছেন হার্দিক পাণ্ড্য। সূর্যের ভাষায়, “হার্দিক দুর্দান্ত। যখনই দলের প্রয়োজন হচ্ছে, তখনই ও অবদান রাখছে—তা সে ব্যাট হাতে হোক বা বল হাতে।”
‘সেনা’ ট্রেনিং ও হার্দিকের প্রত্যাবর্তন
ম্যাচে ২৮ বলে ৫২ রান এবং বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন হার্দিক পাণ্ড্য। নিজের বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে হার্দিক জানান, বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ দুই মাস তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
“বিশ্বকাপের আগে মাসখানেক আমি অনেকটা সেনাদের মতো (Army-style training) কঠোর ট্রেনিং করেছি। এখন শরীর একদম ঠিক আছে। ব্যাট করতে বরাবরই ভালোবাসি, রান পেলে ভালো লাগে,” বলেন হার্দিক।
দিল্লির মন্থর পিচ নিয়ে অসন্তোষ
দিল্লির পিচের আচরণ নিয়ে কিছুটা অবাক ও অসন্তুষ্ট হার্দিক। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের মতে, টানা দুটি ম্যাচে তাঁরা যে ধরনের উইকেট পেলেন তা মোটেই ব্যাটিং সহায়ক নয়। হার্দিক বলেন, “আমরা আরও একটু পাটা (Flat) পিচ আশা করেছিলাম। উইকেট বেশ ধীর গতির। এমন মন্থর পিচে সফল হতে গেলে বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতেই হবে।”
আগামীর লক্ষ্য
দলের বোলিং আক্রমণ—বিশেষ করে স্পিনারদের ফর্ম নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হার্দিক। তবে পাকিস্তানের মতো বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামার আগে টপ ও মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন টিম ইন্ডিয়ার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

