চিকিৎসকদের আপ্রাণ লড়াই বিফলে গেল। নিপা ভাইরাসের থাবায় প্রাণ হারালেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের তরুণী নার্স। সুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলেও শেষ মুহূর্তে ফুসফুসে সেকেন্ডারি ইনফেকশন বা গৌণ সংক্রমণের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আজ, বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাসাতের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের কোঁয়ারপুর গ্রামে।
সামান্য উপসর্গ থেকে মর্মান্তিক পরিণতি
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষে ওই তরুণী নার্সের সামান্য জ্বর ও ঠান্ডা লাগার উপসর্গ দেখা দেয়। গত ৩১ ডিসেম্বর তিনি গুসকরায় একটি চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পরই তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে কাটোয়ার এক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও ৩ জানুয়ারি তিনি জ্ঞান হারান।
চিকিৎসার পর্যায়ক্রম:
- কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল: জ্ঞান হারানোর পর দ্রুত এখানে ভর্তি করা হয়।
- বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ: অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়।
- বারাসাত নার্সিংহোম: শেষ পর্যায়ে এখানে চিকিৎসার সময়ই প্রথম ধরা পড়ে যে তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত।
শেষ মুহূর্তের লড়াই
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই তরুণী সুস্থ হওয়ার পথেই ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাঁকে দ্রুত ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়। তবে সেই লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিকেলের দিকেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়েই বারাসাতের হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন শোকাতুর বাবা-মা।
গ্রামে শোকের পরিবেশ
মেধাবী ও কর্মঠ হিসেবেই গ্রামে পরিচিত ছিলেন ওই নার্স। মানুষের সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে নার্সিং পেশায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সামান্য জ্বর থেকে যে এমন ভয়াবহ পরিণাম হবে, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না কোঁয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দারা। প্রতিবেশীদের চোখে জল, থমথমে হয়ে আছে পুরো এলাকা।
স্বাস্থ্য ভবনের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনকে ইতিমধ্যেই এই মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই একই সময়ে রাজ্যে আরেকজন পুরুষ নার্সও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং জানুয়ারি মাসেই তিনি হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। মৃত নার্সের ক্ষেত্রে কেন পরিস্থিতির এমন দ্রুত অবনতি হলো, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

