২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে নোরা ফতেহির জমকালো পারফরম্যান্স; শাকিরা-বার্না বয়ের সাথে ভাগ করলেন মঞ্চ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে নোরা ফতেহির জমকালো পারফরম্যান্স; শাকিরা-বার্না বয়ের সাথে ভাগ করলেন মঞ্চ

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসর ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে ইতিহাস গড়লেন বলিউড তারকা নোরা ফতেহি। বৃহস্পতিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অফিশিয়ালি পর্দা উঠল এই ফুটবল বিশ্বকাপের। কলম্বিয়ার পপসম্রাজ্ঞী শাকিরা এবং নাইজেরিয়ার পপতারকা বার্না বয়ের পাশাপাশি এই মেগা মঞ্চে কানাডিয়ান-মরোক্কান বংশোদ্ভূত ভারতীয় তারকা নোরার নাচ ও গান বিশ্বমঞ্চকে মোহিত করে। আন্তর্জাতিক স্তরের এমন একটি আসরে পারফর্ম করার সুযোগকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন নোরা।

গানের অনুপ্রেরণা ও মরোক্কোর সংযোগ

উদ্বোধনী মঞ্চে নোরা ফতেহি তাঁর ‘সির সির’ (Serr Serr) গানটি পরিবেশন করেন, যার অর্থ ‘এগিয়ে চলা’। এই বিশেষ গানটির নেপথ্য কাহিনী শেয়ার করে নোরা জানান, আফ্রিকার মরোক্কোয় ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে তিনি এই গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

নোরার কথায়:

‘‘মরোক্কোয় ম্যাচগুলোর সময় স্টেডিয়ামে প্রায় ৭০ হাজার দর্শককে একসঙ্গে ‘সির সির’ স্লোগান দিতে দেখতাম। এই স্লোগানটি আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছিল। এর পরেই আমি আমার প্রযোজক সঞ্জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং এই স্লোগানটিকে কেন্দ্র করে একটি বিশ্বকাপ সঙ্গীত (World Cup Anthem) তৈরি করার অনুরোধ জানাই।”

আন্তর্জাতিক তারকাদের সাথে একই সারিতে নোরা

বিশ্বকাপের এই অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীসত্তাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সমৃদ্ধ ও পুনর্গঠিত করেছে বলে দাবি নোরার। একই মঞ্চে শাকিরা, বার্না বয় কিংবা কেটি পেরির মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক তারকাদের পাশে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়াকে অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে মনে করেন তিনি। আজ এই আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছোনোর পেছনে তাঁর দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে বলেও নোরা উল্লেখ করেন।

বৈশ্বিক সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের শক্তি

সঙ্গীতের সার্বজনীন আবেদন নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এই বলিউড অভিনেত্রী বলেন, “যখন বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্নধর্মী সুর এবং শিল্পচর্চা এক জায়গায় মিলিত হয়, তখনই বোঝা যায় মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলতে সঙ্গীত কতটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। শাকিরা বা বার্না বয়ের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রেই প্রকৃত জাদু তৈরি হয়, যাঁদের সৃজনশীল ভাবনা একে অপরের সঙ্গে মেলে। কারণ ভিন্ন ভিন্ন জগত একসঙ্গে এসে যখন নতুন কিছু সৃষ্টি করে, তখনই জন্ম নেয় অপ্রত্যাশিত এবং স্মরণীয় মুহূর্তের।”

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে নোরার এই উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স কেবল তাঁর ব্যক্তিগত কেরিয়ারেই নয়, বরং ভারতীয় বিনোদন জগতের জন্যও একটি অত্যন্ত গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.