পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্সের (আধাসেনা বাহিনী) একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক হামলায় এখনও পর্যন্ত বাহিনীর ৩ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে মৃত্যু হয়েছে ৩ জন হামলাকারীরও। বর্তমানে গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে পাকিস্তানের স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ইউনিট কমান্ডো, অ্যান্টি টেররিস্ট ফোর্স এবং রেঞ্জার্স।
মূল প্রবেশদ্বারে গাড়ি নিয়ে ধাক্কা, তীব্র বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে করাচির গুলিস্তান-এ-জওহর এলাকার ব্লক ৫-এর কাছে আচমকা এই হামলার ঘটনা ঘটে। সিন্ধু প্রদেশের পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জাভেদ আলম ওধো পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-কে জানিয়েছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। হামলাকারীরা একটি গাড়ি নিয়ে এসে সিন্ধু রেঞ্জার্সের ঘাঁটির মূল প্রবেশদ্বারে সজোরে ধাক্কা মারে।
গাড়িটি ধাক্কা মারার পরপরই সেখানে একটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। এর পরেই শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি।
তৎপর উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পাকিস্তানের সেন্ট্রাল কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টার থেকে ‘রেসকিউ ১১২২ সিন্ধু’র উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জঙ্গিদের নিকেশ করতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স, পুলিশ কমান্ডো এবং স্পেশ্যাল সিকিউরিটি ইউনিটের মতো বিশেষ বাহিনীকে।
প্রাথমিক অভিযান শেষে সিন্ধুর পুলিশপ্রধান জাভেদ আলম ওধো নিশ্চিত করেছেন যে, হামলায় ৩ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাহিনীর গুলিতে ৩ জন ‘সন্ত্রাসবাদী’ নিহত হয়েছে। তবে এই হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি।
পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী
এই হামলার ঘটনার পর সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ স্বয়ং তৎপর হয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কাছ থেকে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনি সিন্ধু পুলিশের আইজি এবং করাচির অতিরিক্ত আইজি-র সঙ্গে কথা বলে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছেন। গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।

