উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার ঐতিহাসিক রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকার নগদ এবং মূল্যবান অলঙ্কার ও রত্ন চুরির ঘটনায় তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। এই দুর্নীতি কাণ্ডে আটজন অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পরেই নৈতিক দায় স্বীকার করে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চম্পৎ রাই। একই সঙ্গে ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অনিল মিশ্র-ও।
চম্পৎ রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে এবং একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই তিনি সাময়িকভাবে পদ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের
এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা এবং আটজনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার এক কড়া বার্তায় তিনি বলেন:
“ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে কোনো রকম ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। সনাতন ধর্মের মূল্যবোধে আঘাত হানার বিরুদ্ধে আমাদের সরকার ‘শূন্য-সহনশীলতা’ (জ়িরো টলার্যান্স) নীতি অনুসরণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।”
সিটের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য, কীভাবে চলত কারচুপি?
রামমন্দিরে জমা পড়া প্রণামী ও অনুদানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার সিট তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই দুর্নীতির গভীরতা সামনে আসে।
সিটের সুপারিশ মেনে গত বৃহস্পতিবার ট্রাস্টের অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে এফআইআর (FIR) রুজু করে রাতেই পুলিশ আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন:
- লবকুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র: এরা দুজনেই মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া নগদ অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী গণনা ও নথিভুক্তকরণের দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন।
- রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু: ইনি আগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। ২০২২ সাল থেকে তাঁকে মন্দির নির্মাণ ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।
- অন্যান্য ধৃতেরা: অবিনাশ শুক্ল, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব।
ধৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি হওয়া সম্পত্তি গোপন রাখা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দেড়শো সেবাদারের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন
সূত্রের খবর, সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে শুধু এই আটজনই নয়, বরং মোট ১৭ জনকে ‘দোষী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, রামমন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সেবাদারদের অনেকেরই ব্যক্তিগত সম্পত্তি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সম্পত্তি বৃদ্ধির তালিকায় বিশেষভাবে নাম উঠে এসেছে ফুলকান্ত মিশ্র নামে এক ব্যক্তির, যিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর সহ-সভাপতি তথা ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বিপুল অঙ্কের এই আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকড় কতদূর ছড়ানো, তা জানতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে পুলিশ।

