দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলা শাসক-বিরোধী তরজার মধ্যেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদী। শনিবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্স’ (এসআরসিসি)-এর একটি দীর্ঘ বক্তৃতায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি আজকের ভারতের সঙ্গে ১৩ বছর আগের ভারতের তুল্যমূল্য হিসাব তুলে ধরার পাশাপাশি গত ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে দেওয়া ‘দিমাগি নকশাল’ বার্তার প্রসঙ্গও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতির আমূল পরিবর্তনের দাবি ২০১৩ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এসআরসিসি-র অনুষ্ঠানে তাঁর দেওয়া বক্তৃতার স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সময় দেশের অর্থনীতি তলানিতে এবং মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই হতাশাজনক চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। সেকালের ‘জলের অর্ধেক ভরা গ্লাস’-এর তত্ত্ব টেনে মোদী জানান যে তিনি সবসময় গ্লাসটিকে কানায় কানায় পূর্ণ (অর্ধেক জল ও বাকি অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ) বলেই মনে করেন।
চলতি জিডিপি বিতর্ক ও মোদীর জবাব চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হওয়ার পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের এই তথ্যে বিরোধীরা আপত্তি জানালেও এবং প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গের মতো বিশেষজ্ঞরা তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও প্রধানমন্ত্রী এই পরিসংখ্যানকে দৃঢ়তার সঙ্গে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার মাঝে এই ৭.৮ শতাংশ জিডিপি দেশের অর্থনীতিতে এক উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন এবং এটি দেশবাসীকে উজ্জীবিত করেছে। যাঁরা এক সময় দেশের অর্থনীতিকে তলানিতে ঠেলে দিয়েছিলেন, তাঁরাই আজ এই পরিসংখ্যান হজম করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসবাদীরা অতীত হয়ে গিয়েছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে উপযুক্ত জবাব দেয়। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি ফিরে এসেছে এবং মাওবাদীদের কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে সতর্কবার্তা বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি তাদের সতর্কও করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্যাম্পাস জীবন শেষ করে বাস্তব দুনিয়ায় পা রাখার পর দুই ধরনের মানুষের মুখোমুখি হতে হবে বলে ছাত্রছাত্রীদের জানান তিনি। এর পরেই লালকেল্লার ভাষণের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, দেশের অগ্রগতিতে অসন্তুষ্ট এমন কিছু মানুষের জন্য তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ নামক ‘হোমিওপ্যাথিক ডোজ়’ দিয়েছেন, যা প্রথমে রোগের তীব্রতা বাড়িয়ে পরে তার সঠিক চিকিৎসা করে।

