রাজ্যের ৫১টি আইটিআই-এর দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে, বণিকসভায় বড় ঘোষণা কারিগরি শিক্ষামন্ত্রীর

রাজ্যের ৫১টি আইটিআই-এর দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে, বণিকসভায় বড় ঘোষণা কারিগরি শিক্ষামন্ত্রীর

রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে এক বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজ্যের ৫১টি সরকারি আইটিআই-কে (صনডিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার কলকাতায় ‘বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স’-এর এক সম্মেলনে এই বড় ঘোষণা করেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা তথা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

আইটিআই এবং বৃত্তিমূলক কোর্সের পড়ুয়াদের বিশ্বমানের ও উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দিতে গত বছর কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘পিএম সেতু’ (প্রধানমন্ত্রী স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং আপলিফ্টমেন্ট) প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই প্রকল্পের আওতায় শিল্পমহলের সহযোগিতায় এই ৫১টি আইটিআই-এর খোলনলচে বদলে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ টানতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।

‘শিল্পমহলই ঠিক করবে পাঠ্যক্রম’, উত্তরপ্রদেশ-অন্ধ্রের উদাহরণ মন্ত্রীর মুখে

বণিকসভার মঞ্চ থেকে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির উদ্দেশে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘পিএম সেতু প্রকল্পে আমাদের এই ৫১টি আইটিআই-এর সঙ্গে আপনারা কোলাবরেট (যৌথ সহযোগিতা) করুন।’’ তিনি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে আইটিআইগুলির পরিকাঠামোগত দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হয়। কথা প্রসঙ্গে রসিকতার সুরে মন্ত্রী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, কতগুলো বেচতে পারি। দাদা, চেষ্টা করছি বেচার।’’

এই প্রকল্পের উপযোগিতা বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এবার থেকে ইন্ডাস্ট্রি এসে কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) ঠিক করবে। বাজারে কী ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে এবং তাদের কী প্রয়োজন, তা শিল্পমহলই নির্ধারণ করবে।’’ এ প্রসঙ্গে আসানসোল খনি অঞ্চলের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, খনি অঞ্চলে বিশেষ ধরনের কয়লা কাটার গাড়ি চালানোর জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চালক আনতে হয়, যাদের লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন দিতে হয়। রাজ্যের যুবকদের যদি সেই আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে এখানেই কর্মসংস্থান সম্ভব। এই প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশে টাটা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে মিত্তল গোষ্ঠীর সরকারি আইটিআই-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের উদাহরণও পেশ করেন তিনি।

‘সিন্ডিকেট রাজ’ রুখে স্বচ্ছতার বার্তা

রাজ্যের কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে যে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে, তার আভাস মন্ত্রী আগেই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি কলকাতার মিলনমেলায় আয়োজিত ‘পিএম সেতু’-র প্রথম কর্মশালায় বিগত সরকারের নীতিকে কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি আইটিআই-এর জমি-বাড়ি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হলেও, সেখানে বালি-সিমেন্টের সিন্ডিকেট রাজ চলেছে। তবে নতুন সরকারের আমলে সেই চিত্রের অবসান ঘটবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে বেসরকারি সহযোগিতায় আইটিআই-গুলির মানোন্নয়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। শনিবার বণিকসভার বক্তৃতায় সেই লক্ষ্যেই আরও এক ধাপ এগোনোর বার্তা দিলেন কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.