কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি বিস্ফোরণ ও এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নাটকীয় মোড়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এই বিস্ফোরণ কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা বা জঙ্গি নাশকতার ছক নয়; বরং এক যুগলের তীব্র পারিবারিক বিবাদ এবং তার জেরে গাড়ির ভেতরে থাকা তাজা বোমা ফেটে এই মারাত্মক কাণ্ড ঘটেছে। বিস্ফোরণে মৃত যুবকের নাম নাগেন্দ্র (৩০)।
গাড়ির ভেতর বচসা, প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাত
পুলিশ ও গাড়ির চালকের বয়ান অনুযায়ী, নাগেন্দ্র বেঙ্গালুরু থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। গাড়িতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন রম্যা উল্লাস (২৩) নামের এক যুবতী। রম্যা উত্তর কন্নড় জেলার বাসিন্দা এবং বেঙ্গালুরুর সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে কর্মরত।
গাড়ির চালক প্রবীণ পুলিশকে জানান, বেঙ্গালুরু থেকে ওই যুগল গাড়িতে উঠে উত্তর কন্নড়ের আঙ্কোলার দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু গাড়িটি তুমাকুরু এলাকায় পৌঁছালে কোনও অজ্ঞাত কারণে নাগেন্দ্র ও রম্যার মধ্যে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। বচসা চলাকালীন আচমকাই নাগেন্দ্র একটি ধারালো ছুরি বার করে রম্যাকে আঘাত করেন। চালক প্রবীণ তাঁদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে নাগেন্দ্র তাঁকে ভয় দেখান এবং জানান যে তাঁর কাছে বোমা রয়েছে।
চালক ও যুবতীর প্রাণরক্ষা, লক করা গাড়িতে বিস্ফোরণ
গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও কোনওরকমে চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে প্রাণ বাঁচান রম্যা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক প্রবীণও রাস্তার একপাশে গাড়ি থামিয়ে তড়িঘড়ি নিচে নেমে পড়েন।
পুলিশের সন্দেহ, চালক ও প্রেমিকা নেমে যাওয়ার পর নাগেন্দ্র গাড়ি থেকে নামেননি। তিনি ভেতর থেকে গাড়ির সমস্ত দরজা লক করে দেন। এর পরেই তাঁর সঙ্গে আনা তাজা বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটান তিনি, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় এবং গাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
তদন্তে ফরেনসিক দল, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
বর্তমানে আহত যুবতী রম্যা উল্লাস তুমাকুরু জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার অভিঘাতে আহত হয়েছেন চালক প্রবীণও। পুলিশ ইতিমধ্যেই চালকের বয়ান নথিভুক্ত করেছে এবং হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনুমতি সাপেক্ষে আহত যুবতী রম্যার বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ঘটনার তদন্ত জারি রয়েছে।

