করোনাভাইরাস পরবর্তী বিশ্বে জ়িকা, নিপা বা বার্ড ফ্লু-র মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনে ‘ডিজ়িজ এক্স’ (Disease X) নামক কোনো অজানা সংক্রামক ব্যাধি অতিমারির রূপ নিতে পারে। এই আসন্ন বিপদ থেকে দেশকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও আইসিএমআর যৌথভাবে তৈরি করেছে এক অত্যাধুনিক ‘এআই সার্ভিল্যান্স মডেল’।
কেন এই যন্ত্রের প্রয়োজন?
পরিসংখ্যান বলছে, গত চার দশকে প্রায় ১৮টি নতুন ধরনের ভাইরাস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেবিস, ব্রুসেলোসিস ও লাইম ডিজ়িজ়ের মতো ‘জুনোটিক’ (পশু থেকে মানুষে ছড়ানো) রোগ অন্যতম। এমনকি ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ও ক্যানাইন করোনাভাইরাস নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হু। এই ভাইরাসগুলো কখন মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ভয়ংকর আকার নেবে, তা সাধারণ পদ্ধতিতে বোঝা কঠিন। আইসিএমআর-এর এই ডিজিটাল মাধ্যমটি মূলত আবহাওয়ার বদল এবং পশু-পাখির শরীর থেকে আসা জীবাণুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে।
যেভাবে কাজ করবে এই এআই টুল
আইসিএমআর জানিয়েছে, এই যন্ত্রটি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করবে:
- তথ্য বিশ্লেষণ: দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসা সংক্রামক রোগের রিপোর্ট এবং গবেষণাগারে রোগীদের নমুনার জিনগত বিশ্লেষণ করবে এই যন্ত্র।
- রেড অ্যালার্ট বা লাল সংকেত: কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় যদি হঠাৎ কোনো অজানা রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে এআই অ্যালগরিদম তৎক্ষণাৎ সংকেত পাঠিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করবে।
- জুনোটিক ট্র্যাকিং: নিপা বা বার্ড ফ্লু-র মতো ভাইরাস শনাক্ত করতে বন দপ্তর ও পশুপালন দপ্তরের রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে এই যন্ত্র। পশুদের মধ্যে কোনো ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে কি না এবং তা মানুষের শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি কতটা, তা বিশ্লেষণ করবে এটি।
ভাইরাসের রূপবদল বা মিউটেশন পর্যবেক্ষণ
এই যন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো জিনগত মিউটেশন শনাক্ত করা। কোনো ভাইরাস যদি নিজের গঠন পরিবর্তন করে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে এটি জানাবে যে সেই ভাইরাসটি ভবিষ্যতে অতিমারি তৈরির ক্ষমতা রাখে কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুর আগ্রাসন যে হারে বাড়ছে, তাতে এই ধরনের প্রযুক্তিগত নজরদারি কেবল প্রয়োজন নয়, বরং অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারি হানা দেওয়ার আগেই তার ‘বিপদ সংকেত’ পাওয়া গেলে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

