ভাগ্নীর বিয়ে আটকাতে স্কুটিতে আগ্নেয়াস্ত্র! প্রেমদিবসে বর্ধমানে চাঞ্চল্যকর কাণ্ড, পুলিশের জালে মামা

ভাগ্নীর বিয়ে আটকাতে স্কুটিতে আগ্নেয়াস্ত্র! প্রেমদিবসে বর্ধমানে চাঞ্চল্যকর কাণ্ড, পুলিশের জালে মামা

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন সাতপাকে বাঁধা পড়ার পরিকল্পনা ছিল তরুণীর। দিনটি বেছে নিয়েছিলেন ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। কিন্তু প্রেমিকের সঙ্গে রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পথেই ঘটল বিপত্তি। স্কুটির ডিকি থেকে উদ্ধার হলো আগ্নেয়াস্ত্র! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ মোড় এলাকায়। তবে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য— বিয়ে আটকাতে খোদ তরুণীর মামাই সাজিয়েছিলেন এই ভয়ঙ্কর ছক।

ঘটনার সূত্রপাত

বর্তমানে রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। শনিবার পরীক্ষা না থাকায় সেই সুযোগে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করার সিদ্ধান্ত নেন পরীক্ষার্থী তরুণী ও তাঁর প্রেমিক। প্রেমিকের স্কুটিতে চেপে তাঁরা যখন বর্ধমান শহরের গোলাপবাগ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। তল্লাশি চালাতেই স্কুটির ডিকি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। ঘটনায় হতবাক হয়ে যান ওই তরুণী ও তাঁর হবু স্বামী।

তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

আটক করার পর ওই যুগলকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁরা দাবি করেন, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে সেখানে এল সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণাই নেই। তাঁদের কথায় অসঙ্গতি না থাকায় পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে পরিবারের ওপর। তদন্তে জানা যায়, ভাগ্নীর এই বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাঁর মামা শ্রীকান্ত দাস। বিয়ে ভাঙার উদ্দেশ্যে তিনি এবং তাঁর এক সহযোগী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকের স্কুটির ডিকিতে আগ্নেয়াস্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন।

গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন শ্রীকান্ত দাস। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মামা ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। আদালত তাঁদের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন ওই প্রেমিক যুগল।


এক নজরে উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬: বদলেছে নিয়ম

ঘটনাটি যখন ঘটছে, তখন রাজ্যজুড়ে চলছে নতুন নিয়মের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। এবছর থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে সেমিস্টার প্রথা চালু হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে পর্ষদ বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে:

  • সেমিস্টার পদ্ধতি: দেশে প্রথমবার উচ্চমাধ্যমিকে সেমিস্টার সিস্টেম চালু হলো। গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় সেমিস্টারের পর এখন চলছে চতুর্থ সেমিস্টার।
  • উত্তরপত্রের সীমাবদ্ধতা: এবার থেকে পরীক্ষায় কোনো অতিরিক্ত পাতা (Loose Sheet) দেওয়া হচ্ছে না। চতুর্থ সেমিস্টারের জন্য নির্ধারিত ২৪ পাতার উত্তরপত্র এবং সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৬ পাতার উত্তরপত্র দেওয়া হচ্ছে।
  • বিকল্প প্রশ্ন: পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে প্রশ্নপত্রে বিকল্প প্রশ্নের (Options) সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিকের এই ডামাডোলের মাঝেই বর্ধমানের এই ‘ফিল্মি’ কায়দায় বিয়ে আটকানোর চেষ্টা শহরজুড়ে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.