‘ফ্লাইদুবাই’ বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, যে বা যাঁদের নির্দেশে এই কান্ড ঘটানো হয়েছে, তাঁদের বড়সড় মূল্য চোকাতে হবে। একই সঙ্গে মুম্বইয়ে নিযুক্ত ইজরায়েলি কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ এই ঘটনাকে সরাসরি একটি ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
চরমপন্থা ও বিমান ধ্বংসের অভিসন্ধি
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, আটক আক্রমণকারী সহ-পাইলটকে আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ইসলামপন্থী চরমপন্থায় দীক্ষিত ছিলেন। কেবল পাইলটের ওপর হামলা চালানোই নয়, যাত্রীসহ পুরো বিমানটিকে মাঝ-আকাশে ধ্বংস বা ‘ক্র্যাশ’ করানোর অভিসন্ধি ছিল তাঁর।
নেতানিয়াহু বলেন:
‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। অভিযুক্তকে বাইরে থেকে কেউ পাঠিছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁদের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে, তাঁদের চরম মূল্য দিতে হবে।’’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে হামলার পর ওই সহ-পাইলট আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পুরো ঘটনার তদন্ত করছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) এবং সমান্তরালভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলও।
৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে নারকীয় হামলা ও বিমানের জরুরি অবতরণ
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার। ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ (FZ 1073) বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে রওনা দেয়। ওড়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমান যখন ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে, ঠিক তখনই ককপিটে থাকা ভারতীয় মুখ্য চালক স্মিত মচ্ছরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন সহ-পাইলট।
অভিযোগ, স্মিতের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি কোপ মারার পাশাপাশি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তবে রক্তাত ও গুরুতর আহত অবস্থাতেও অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে বিমানের মূল নিয়ন্ত্রণ সহ-পাইলটের হাতে যেতে দেননি স্মিত।
মাঝ-আকাশে চিকিৎসা ও বিশ্বনেতাদের প্রশংসা
আক্রান্ত হওয়ার পর বিমানে থাকা এক চিকিৎসক যাত্রী মাঝ-আকাশেই স্মিতের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। এরপর বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসার পর তাঁকে দুবাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়।
গুরুতর আহত হয়েও বিমান ও যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা করায় ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

