এক ম্যাচে ৮১১ রান তুলে জয় হলেও ক্ষুব্ধ গম্ভীর, বোলারদের পক্ষে সওয়াল করে নিশানা পিচ কিউরেটরদের

এক ম্যাচে ৮১১ রান তুলে জয় হলেও ক্ষুব্ধ গম্ভীর, বোলারদের পক্ষে সওয়াল করে নিশানা পিচ কিউরেটরদের

গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়া জয়ের পরও ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের মুখে হাসির বদলে দেখা গেল তীব্র অসন্তোষ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮১১ রানের পাহাড়প্রমাণ বিশ্বরেকর্ড গড়া এই ম্যাচের পর স্টেডিয়ামের চরম ব্যাটারবান্ধব পিচ নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। পিচে বোলারদের জন্য সামান্যতম সুবিধা না থাকাকে ক্রিকেটের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন গম্ভীর।

ঐতিহাসিক এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ওডিআই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৪০৫ রান)। পরবর্তীতে অধিনায়ক শুভমন গিলের অনবদ্য ২২৩ এবং রোহিত শর্মার ১০১ রানের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। এটি ভারতের এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ৪০০-র বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির। তবে এই অবিস্মরণীয় জয়ের পরও পিচের চরিত্র নিয়ে ভারতীয় কোচ বলেন, “সত্যি বলতে আমি ব্যাট ও বলের মধ্যে আরও ভালো প্রতিযোগিতা আশা করেছিলাম। কিন্তু এখানে তা হয়নি। এটা ক্রিকেট নয়, এটা শুধুই ব্যাটিং।”

বর্ষাপাড়ার উইকেটে ম্যাচ চলাকালীন সামান্যতম ফাটল ধরেনি বা মন্থর হয়নি। এক ম্যাচে পাঁচটি সেঞ্চুরি (যার মধ্যে একটি ডাবল সেঞ্চুরি) হওয়া এই পিচকে বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন বলে অভিহিত করেছেন গম্ভীর। পিচ প্রস্তুতকারকদের সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, “এই ধরনের উইকেট বোলারদের কোনো সুবিধাই দেয় না। ওরা হয়তো অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বোলারদেরও তো কিছু সুযোগ দিতে হবে। যে পিচ তৈরি করে, তাকে বিষয়টি বুঝতে হবে।”

তরুণ ও নবাগত বোলারদের পাশে দাঁড়িয়ে গম্ভীর জানান, এমন একপেশে পিচে রান খরচের জন্য বোলারদের দায়ী করা অনুচিত। অভিষেক ম্যাচে ভারতীয় পেসার আকিব নবি ৮৪ রান এবং গুরনুর ব্রার ৯৬ রান খরচ করেন। এছাড়া প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৫ ওভারে দেন ৪৫ রান। এই প্রসঙ্গে কোচ বলেন, “ভাবুন, কোনো তরুণ বোলার এই পিচে বল করছে। সে দেখল প্রতিপক্ষ ৪০০ রান করল, পরে আমরা সেই রান তাড়া করে জিতেও গেলাম। রেকর্ডের পক্ষে বা বিনোদনের জন্য এটা ভালো হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেটের সত্যিকারের অনুরাগী কেউ হলে তার ভালো লাগবে না। বোলারদের জন্য আমার সত্যিই দুঃখ হচ্ছে।”

আধুনিক ক্রিকেটের দুই নতুন বলের নিয়ম এবং ৩০ গজ বৃত্তের ভেতরে ৫ জন ফিল্ডার থাকার বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিসংখ্যান দেখে তিনি দলের বোলারদের সমালোচনা করবেন না। পিচ থেকে সামান্য সুবিধা পেলেই এই বোলাররা দুর্দান্ত পারফর্ম করতে সক্ষম বলে আশা প্রকাশ করেন কোচ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.