বেলডাঙা হিংসা: ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এনআইএ-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ আদালতের

বেলডাঙা হিংসা: ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এনআইএ-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ আদালতের

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ঘটা সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় রাজ্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতার বিচার ভবন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই মামলার সমস্ত ‘কেস ডায়েরি’ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিক আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েন।


আইনি টানাপড়েন ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

বেলডাঙা কাণ্ডের তদন্তভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে এনআইএ গ্রহণ করলেও, রাজ্য পুলিশের অসহযোগিতার কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে অভিযোগ ওঠে।

  • এনআইএ-র দাবি: কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী শ্যামল ঘোষ আদালতে জানান, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও কেস ডায়েরি হস্তান্তরিত হয়নি, ফলে মূল তদন্ত শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
  • রাজ্যের যুক্তি: সরকারি আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। তবে এর প্রেক্ষিতে আদালত পাল্টা প্রশ্ন করে, তদন্তে কোনো স্থগিতাদেশ আছে কি না।
  • পূর্ববর্তী শুনানি: গত শুনানিতেও অভিযুক্তদের আদালতে হাজির না করতে পারায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল এনআইএ।

সব দিক খতিয়ে দেখে বিচারক আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত নথি হস্তান্তরের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।


ঘটনার প্রেক্ষাপট: বেলডাঙা কেন উত্তপ্ত হয়েছিল?

মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বেলডাঙা।

  1. শ্রমিকের মৃত্যু: ঝাড়খণ্ডে কর্মরত আলাউদ্দিনের দেহ গ্রামে পৌঁছালে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ার কারণে তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করে।
  2. প্রতিবাদ ও অবরোধ: ১৬ জানুয়ারি জাতীয় সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। এর জেরে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়।
  3. পরিকল্পিত অশান্তি: পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রথম দিনের বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয় দিনের অশান্তি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার দিন এক মহিলা সাংবাদিকও আক্রান্ত হন।

হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ

কলকাতা হাইকোর্ট আগেই জানিয়েছিল যে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিতে পারে। সেই অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্তের দায়িত্বভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে ন্যস্ত করে। এখন আদালতের নির্দেশে কেস ডায়েরি হস্তান্তরের পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.