প্রতিদিন ১৪০–১৫০ গ্রাম প্রোটিন, ঘরে তৈরি খাবারে ভরসা: চিরাগ শেঠির ফিটনেস মন্ত্র নিয়ে জোর চর্চা

প্রতিদিন ১৪০–১৫০ গ্রাম প্রোটিন, ঘরে তৈরি খাবারে ভরসা: চিরাগ শেঠির ফিটনেস মন্ত্র নিয়ে জোর চর্চা

ব্যাডমিন্টন কোর্টে ঝড়ের গতি এবং অফুরন্ত প্রাণশক্তির জন্য পরিচিত দেশের অন্যতম সফল ব্যাডমিন্টন তারকা চিরাগ শেঠি। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর ওপেন জয় করার পাশাপাশি সাত্বিকসাইরাজ রঙ্কিরেড্ডির সঙ্গে জুটি বেঁধে বিশ্বের এক নম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার কিম ওন হো ও সিয়ো সিয়াং জায়ের জুটিকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নজর কেড়েছেন তিনি। এই সাফল্যের পর থেকেই ক্রীড়ামহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে চিরাগের ফিটনেস, কঠোর অনুশীলনের রুটিন এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ডায়েট চার্ট নিয়ে মুখ খুলেছেন চিরাগ। তিনি জানান, পেশ পেশির শক্তি ও কোর্টের গতি ধরে রাখতে তিনি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখেন। কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা বাজারচলতি প্রোটিন শেকের পরিবর্তে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খেয়েই নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখেন এই শাটলার।

চিরাগ শেঠির প্রতিদিনের ডায়েট চার্ট

পেশাদার ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় কোর্টে শক্তি ও গতি বজায় রাখতে পেশি সক্রিয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। চিরাগের মতে, সেই শক্তির মূল উৎস হলো প্রোটিন। দীর্ঘ খেলার পর পেশির ক্লান্তি দূর করতে এবং মেদহীন শরীর গঠনে তাঁর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৫০ গ্রাম প্রোটিন নির্দিষ্ট থাকে।

  • প্রাণিজ প্রোটিন: প্রতিদিনের পাতে থাকে ডিম ও চর্বিহীন মুরগির মাংস (লিন মিট)। রেড মিট পুরোপুরি বর্জন করেছেন তিনি। এর পরিবর্তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন ধরনের মাছ খেতেই বেশি পছন্দ করেন।
  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি ডায়েটে রাখেন বিভিন্ন ধরনের ডাল, বিনস, সয়াবিন এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ নানা প্রকার বাদাম ও বীজ (seeds)।

প্রোটিন ডায়েট ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বর্তমানে কেবল ক্রীড়াবিদদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রোটিন ডায়েটের জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণ মেপে প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাত বা রুটি অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দিয়ে কেবল মাছ, মাংস বা ডিম খেয়ে পেট ভরানোর প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও শরীরের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ সঠিক না হলে এবং পরিমাণের বেশি মাংস বা ডিম খেলে ক্যালোরি কমার বদলে উল্টে বেড়ে যেতে পারে। সঠিক নিয়মে মেপে প্রোটিন ডায়েট করলে শরীরের বিপাক হার (metabolic rate) বৃদ্ধি পায়, তবে তা হতে হবে স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রেখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.