মেরঠের নৃশংস মার্চেন্ট নেভি অফিসার হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী মুস্কান ও প্রেমিক সাহিল দোষী সাব্যস্ত

মেরঠের নৃশংস মার্চেন্ট নেভি অফিসার হত্যাকাণ্ড: স্ত্রী মুস্কান ও প্রেমিক সাহিল দোষী সাব্যস্ত

প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মুস্কান রস্তোগী এবং মুস্কানের প্রেমিক সাহিল শুক্লকে দোষী সাব্যস্ত করল উত্তরপ্রদেশের আদালত। বুধবার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত দুই অভিযুক্তকেই অপরাধী ঘোষণা করলেও সাজা প্রদান স্থগিত রেখেছে। সরকারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুলিশি তদন্ত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৩ মার্চ, উত্তরপ্রদেশের মেরঠের ইন্দ্রনগর এলাকায়। কন্যাসন্তানের জন্মদিন উপলক্ষে বাড়ি ফিরেছিলেন প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত। অভিযোগ, ঐ দিন রাতে স্ত্রী মুস্কান খাবারে বিষ মিশিয়ে সৌরভকে অচেতন করে ফেলেন। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্ল সেখানে উপস্থিত হন। এরপর দু’জনে মিলে ছূরি দিয়ে আঘাত করে সৌরভকে হত্যা করেন।

হত্যার পর মরদেহটি শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়। পচনের দুর্গন্ধ ঢাকা দিতে দেহের টুকরোগুলি একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা হয় এবং তার ওপর বালি, জল ও সিমেন্টের মিশ্রণ ঢেলে ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপরাধ সংঘটিত করার পরদিন মুস্কান ও সাহিল হিমাচল প্রদেশে পালিয়ে যান। তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে ও বিভ্রান্তি ছড়াতে তাঁরা সৌরভের মোবাইল ফোনটি সাথে করে নিয়ে যান এবং সেখান থেকে পরিবারকে বার্তা পাঠাতে থাকেন যাতে সকলে মনে করে সৌরভ সুরক্ষিত আছেন।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার ঘটনার দিনকয়েক পর, ১৭ মার্চ প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে পুলিশ সৌরভের ইন্দ্রনগরের বাসভবনে তল্লাশি চালায় এবং সেখান থেকে ঐ নীল ড্রামটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ঘটনার দু’দিন পর হিমাচল প্রদেশ থেকে মুস্কান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচার প্রক্রিয়া বিগত ১৩ মাসে ১২৬টি শুনানির পর এবং ২২ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করে উত্তরপ্রদেশের নিম্ন আদালতের বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন। শুনানিকালে বিচারক মন্তব্য করেন, “এই ধরনের জঘন্য অপরাধ পুরো সমাজে চরম ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে।”

বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষ একগুচ্ছ বস্তুগত, পারিপার্শ্বিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ তুলে ধরে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানান যে, ঘটনার পূর্বে অভিযুক্তরা তাঁদের কাছ থেকে ধারালো ক্ষুর, প্লাস্টিকের ড্রাম এবং সিমেন্ট-বালি ক্রয় করেছিলেন। এ ছাড়া অভিযুক্তদের মোবাইল কল ডিটেইলস (CDR) এবং টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে তাঁদের উপস্থিতি সুনিশ্চিত করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও নিশ্চিত করে যে ছুরিকাঘাতের ফলেই সৌরভের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত বিরল ও নৃশংস অপরাধের পর্যায় পড়ে, তাই আদালত যেন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করে। আদালত শীঘ্রই সাজার মেয়াদ ঘোষণা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.