পারিবারিক অসম্মতি, মতপার্থক্য কিংবা পাত্র-পাত্রীর অপছন্দের কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত জনপ্রিয়তার কারণে বিয়ের সম্বন্ধ বাতিল হওয়ার মতো এক অদ্ভুত ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। হরিয়ানার এক তরুণী শল্যচিকিৎসকের (সার্জন) ভাগ করে নেওয়া একটি ভিডিও ঘিরে বর্তমানে জোর চর্চা চলছে নেটপাড়ায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিয়ানায় কর্মরত ওই তরুণী সার্জন পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা তথ্যাবলী ও ভিডিও ভাগ করে নেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামী বা ‘ফলোয়ার’-এর সংখ্যা ২ লক্ষেরও বেশি। তবে এই বিপুল জনপ্রিয়তাই তাঁর বিয়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তরুণী চিকিৎসকের দাবি, ইনস্টাগ্রামে ২ লক্ষ অনুগামী থাকার কারণেই পাত্রপক্ষ তাঁর সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ বাতিল করেছে। পাত্রপক্ষের পরিবারের যুক্তি—এমন পরিচিত ও জনপ্রিয় কোনো নারী তাঁদের পরিবারের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন না।
পাত্রপক্ষের এমন আজব যুক্তিতে চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই শল্যচিকিৎসক। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল অনুগামী থাকলেও বাস্তব জীবনে তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। স্বাধীন ও সফল নারীরা যে এখনও সমাজব্যবস্থার এক শ্রেণির মানুষের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠেন, সে কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামের ‘ডক্টরজেসমিনকালসি’ (doctorjasminekalsi) নামক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে (যদিও আনন্দবাজার অনলাইন ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি)। ভিডিওটি ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ দেখেছেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটাগরিকরাও। পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, প্রথাগত মানসিকতার গভীরে আজও কীভাবে নারীবিদ্বেষ গেঁথে রয়েছে—এই ঘটনা তারই প্রমাণ। অনেকে আবার তরুণীকে সান্ত্বনা দিয়ে ওই পাত্রপক্ষকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বর্জনীয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

