ভুলবশত মুখে পুরে ফেলা একটি সূচ শ্বাসনালীতে আটকে গিয়ে চরম বিপত্তির মুখে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং অস্ত্রোপচার সফল করে সেই সূচটি বার করে আনলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির জ্ঞান ফিরেছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল।
ঝাড়খণ্ড থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর
পারিবারিক সূত্রে খবর, শিশুটি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। কোনোভাবে সূচটি মুখে পুরে ফেলার পর তা সরাসরি শ্বাসনালীতে গিয়ে আটকে যায়। শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার রাতে তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে এসে ভর্তি করান।
হাসপাতালে ভর্তির পরই চিকিৎসকেরা কালবিলম্ব না করে শিশুটির সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পরীক্ষায় শ্বাসনালীতে সূচটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করার পর মঙ্গল সকালে অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জটিল অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জ ও সাফল্য
মঙ্গলবার সকালে ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক ড. ঋতম রায়ের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচার শুরু করেন। শিশুটির চোখের পাশ থেকে নাকের অংশ পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাটাছেঁড়া করে সূচের নাগাল পাওয়া যায় এবং অতি সন্তর্পণে সেটি শ্বাসনালী থেকে বার করে আনা হয়।
ড. ঋতম রায় জানান, “মাত্র দুই বছরের একটি শিশুকে সম্পূর্ণ অবশ (General Anesthesia) করে এমন জটিল জায়গায় অস্ত্রোপচার করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। শিশুটির জ্ঞান ফিরেছে এবং সে এখন অনেকটাই সুস্থ। আগামী কয়েক দিন তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছুটি দেওয়া হবে।”
স্বস্তি পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
জটিল এই অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শিশুটির উদ্বেগে থাকা পরিবারের সদস্যরা। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সুপার ড. শান্তনু সেন চিকিৎসা দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ঝাড়খণ্ডের ওই শিশুটির শ্বাসনালী থেকে সূচ বার করার কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের ছিল। আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

